মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসবহুল শহর দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। ক্ষমতার অপব্যবহার, সীমাহীন ঔদ্ধত্য এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার গ্রেপ্তার দেশটির গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুবাই সিটি পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে এবং এ বিষয়ে ১২ জুন একটি চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে দুবাই থেকে তুরস্কে এবং ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তবে র্যাবের ডিজি থাকাকালীন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি ইউরোপে প্রবেশ করতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞার ফলে তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেননি এবং হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতেন বলে জানা গেছে। অবসরের পরও তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাকে গাড়িসহ ছয় সদস্যের একটি সাদা পোশাকধারী পুলিশ দল নিরাপত্তা দিত, পাশাপাশি তার জন্য দুজন সশস্ত্র দেহরক্ষী এবং বাসভবনে তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত ছিলেন।
পুলিশের দায়িত্ব পালনকালে বেনজীর আহমেদ বিরোধী দলকে নিষ্ঠুরভাবে দমন, জমি দখল, আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং পাসপোর্ট কেলেঙ্কারিসহ বহু অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের আস্থাভাজন হওয়ায় তার কোনো বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে তিনি বিরোধীদলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন। ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে রাজারবাগ হাসপাতালে আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখতে গিয়ে ছাত্রশিবির দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি, যা দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছিল।
সূত্র জানায়, নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পর অন্য যাত্রীর মতোই ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসেন তিনি। বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে। স্ক্যানের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তার গ্রেপ্তারের পথ সুগম করে।
রিপোর্টারের নাম 



















