দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, এই খাতগুলো দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন ‘Repurposing Agricultural Public Spending for Quality Growth and Jobs in Bangladesh’s Agrifood System’ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তথ্যভিত্তিক গবেষণা ও সুপারিশ নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং সরকার এই ধরনের মূল্যায়নকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।
কৃষিমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পাটবীজ, পেঁয়াজ বীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাটির অম্লতা কমানো এবং সারের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা। সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ডিজেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তি সরবরাহ, ফল ও সবজি সংরক্ষণে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন, বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণ, চুক্তিভিত্তিক পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড ব্যবস্থাপনা জোরদার, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য। আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়িয়ে কৃষিকে বাণিজ্যিক ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চমূল্যের ও রপ্তানিমুখী ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্যাকিং হাউস, ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, কোয়ারেন্টাইন সুবিধা এবং ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
রিপোর্টারের নাম 






















