নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে শিক্ষাক্ষাতে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের লক্ষ্যে এই খাতে বরাদ্দ জিডিপির দুই শতাংশে উন্নীত করে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এটি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বেশি।
শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষাকে সরাসরি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, আনন্দময় শিক্ষাদান, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে উপকরণ সরবরাহের ঘোষণা, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়িয়ে জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপগুলোকে শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিফলন ঘটেছে। তবে, ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা, সঠিক খাতে ব্যয় এবং এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষাবিদরা।
অন্যদিকে, টাকার অঙ্কে রেকর্ড বরাদ্দ হলেও তা ইউনেসকোর নির্দেশনা (জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ) থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে থাকায় শিক্ষাক্ষাতের কেউ কেউ খুব বেশি সন্তুষ্ট নন। প্রস্তাবিত বাজেটে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হলেও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে, আন্দোলনরত ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষার জন্য ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য ১৮ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























