ভ্রমণপিপাসু বন্ধুর আহ্বানে সাতসকালেই তৈরি হয়েছিলাম আখাউড়ার পথে এক স্মরণীয় ট্রেনযাত্রার জন্য। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও, যথারীতি ঘণ্টাখানেক দেরিতে স্টেশনে এসে পৌঁছায়। এই ফাঁকে প্ল্যাটফর্মে নানা রঙের মানুষের ভিড়, ট্রেনের আসা-যাওয়া এবং যাত্রীদের হুলুস্থুল দেখতে দেখতে সময় কেটে যায়।
অবশেষে হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন থামার আগেই আমরা দৌড়ে আমাদের বগিতে উঠি। তাপানুকূল বগি হলেও ভেতরের ভিড়ে তাপানুকূল ব্যবস্থা একরকম অনুপস্থিত ছিল। ঠেলেঠুলে নির্দিষ্ট আসনে পৌঁছে দেখি, সেখানে দুজন বসে আছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছেলে হওয়াতে তারা বড় কোনো কথা ছাড়াই সিট ছেড়ে দিলে আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি।
মারামারির জন্য পরিচিত হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আনাচে-কানাচে রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং নয়নাভিরাম প্রকৃতির ভান্ডার। আমি ভ্রমণের সময় শুধু প্রকৃতিই নয়, সেই অঞ্চলের মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, আতিথেয়তা ও নিজস্ব সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করি। আমার কাছে একটি সার্থক ভ্রমণের মানে এটাই। ট্রেনভ্রমণের আনন্দ ও স্মৃতিগুলো ধারণ করতে করতেই আমাদের ট্রেন আখাউড়া জংশনে পৌঁছায়।
স্টেশনে আমাদের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল তানশেন। দেখা হতেই তিনি একগাল হেসে আমাদের পোড়া রুটি আর মালাই চা খাওয়ান। এরপর সেখান থেকে বিদায় নিয়ে আমরা মূল গন্তব্যের দিকে ছুটতে থাকি।
পথে তুলাই শিমুল গ্রামের বেকিনগর জুলাই শহীদ জাবিরের ইব্রাহিমের দাদাবাড়ি পৌঁছাই। বিশাল বাড়িটির এক কোণে একটি পুরোনো মাটির ঘর। পরিবারটির সঙ্গে পূর্বপরিচয় থাকায় সেই মাটির ঘরটিতে থাকার সুযোগ হয়। শহীদ জাবিরের ছোট চাচা মাটির ঘরটিতে আমাদের থাকতে দিতে কিছুটা ইতস্তত করলেও, আমি মনে মনে খুবই খুশি হয়েছিলাম। একরকম পরিত্যক্ত এই বাড়িতে রাতযাপন করা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বাড়তি পাওনা।
রিপোর্টারের নাম 

























