ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ইতিহাস বিকৃতকারীরা টিকে থাকতে পারে না: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ইতিহাসের বাস্তবতা যখন স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়, তখন ইতিহাস বিকৃতকারীদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কৃত্রিম বিভাজন ও মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা করেছিল।

শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘আমরা বাংলাদেশি’ আয়োজিত ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী স্বপন তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, জনগণের শক্তি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সত্য ইতিহাসের প্রবাহ সেই কৃত্রিম বয়ানকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, যেখানে ইতিহাস তার সঠিক পথে কথা বলে, সেখানে বিকৃতকারীরা শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা গড়ে তুলেছে। এই দেশের মানুষকে তাদের পরিচয়ের বৈধতা প্রমাণের জন্য সীমান্তের ওপারে গিয়ে কারো কাছ থেকে সনদ নিতে হয় না। বাংলাদেশের স্বকীয়তা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এ দেশের ইতিহাস ও বাস্তবতার গভীরেই প্রোথিত।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার গতিপ্রবাহ এ দেশের জনগণের বয়ানেই নির্ধারিত হয়; কোনো পরগাছা, ধার করা বা কৃত্রিম বয়ানে নয়। জনগণের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, ইতিহাস ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের তৈরি করা বয়ানই সকল কৃত্রিম বয়ানকে ভেঙে দেবে এবং গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করবে।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয়কে রাজনৈতিক দর্শনে রূপ দিয়েছিলেন। ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জাতীয়তাবাদ আজও বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম ভিত্তি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই সকল নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চক্ষু সেবায় বিএনএসবি ও সিইআইটিসির অবদান: বার্ষিক সাধারণ সভায় অগ্রগতি পর্যালোচনা

ইতিহাস বিকৃতকারীরা টিকে থাকতে পারে না: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ইতিহাসের বাস্তবতা যখন স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়, তখন ইতিহাস বিকৃতকারীদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কৃত্রিম বিভাজন ও মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা করেছিল।

শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘আমরা বাংলাদেশি’ আয়োজিত ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী স্বপন তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, জনগণের শক্তি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সত্য ইতিহাসের প্রবাহ সেই কৃত্রিম বয়ানকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, যেখানে ইতিহাস তার সঠিক পথে কথা বলে, সেখানে বিকৃতকারীরা শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নিজস্ব ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি স্বতন্ত্র জাতিসত্তা গড়ে তুলেছে। এই দেশের মানুষকে তাদের পরিচয়ের বৈধতা প্রমাণের জন্য সীমান্তের ওপারে গিয়ে কারো কাছ থেকে সনদ নিতে হয় না। বাংলাদেশের স্বকীয়তা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এ দেশের ইতিহাস ও বাস্তবতার গভীরেই প্রোথিত।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তার গতিপ্রবাহ এ দেশের জনগণের বয়ানেই নির্ধারিত হয়; কোনো পরগাছা, ধার করা বা কৃত্রিম বয়ানে নয়। জনগণের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, ইতিহাস ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মিত হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের তৈরি করা বয়ানই সকল কৃত্রিম বয়ানকে ভেঙে দেবে এবং গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করবে।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের স্বতন্ত্র পরিচয়কে রাজনৈতিক দর্শনে রূপ দিয়েছিলেন। ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই জাতীয়তাবাদ আজও বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম ভিত্তি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই সকল নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত।