ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: কুমিল্লায় শিবির নেতা জিসান গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে এক ২৫ বছর বয়সী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান তাকে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করতে বাধ্য করেন। পরে যখন ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দেন, তখন জিসান আত্মগোপনে চলে যান।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৫-৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিসানের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। গত ২০ মে সর্বশেষ তাকে ধর্ষণ করা হয়, যার ফলে নারীটি গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গর্ভবতী হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং দাউদকান্দির সেকান্দর আলীর ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে খাওয়ান। এর ২-৩ দিন পর নারীর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিনি জিসানের চাচাতো ভাই সজীবকে বিষয়টি জানান। সজীবের মাধ্যমে জিসান পুনরায় ওষুধ পাঠান। রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

তাদের বিয়ের কথা ছিল গত শুক্রবার (১২ জুন)। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত আটটার পর বিয়ে না করার অজুহাতে জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন এবং তার চাচাতো ভাই রাসেলের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করান। পরে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে লাকসাম থেকে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে তুলতে বিলম্ব হচ্ছে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে তোলা হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চক্ষু সেবায় বিএনএসবি ও সিইআইটিসির অবদান: বার্ষিক সাধারণ সভায় অগ্রগতি পর্যালোচনা

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: কুমিল্লায় শিবির নেতা জিসান গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

কুমিল্লায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে এক ২৫ বছর বয়সী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান তাকে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করতে বাধ্য করেন। পরে যখন ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দেন, তখন জিসান আত্মগোপনে চলে যান।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জিসানের চাচাতো ভাই সজীবের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ তাকে উদ্ধারে মাঠে নামে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৫-৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিসানের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। গত ২০ মে সর্বশেষ তাকে ধর্ষণ করা হয়, যার ফলে নারীটি গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গর্ভবতী হওয়ার পর জিসান ওই নারীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং দাউদকান্দির সেকান্দর আলীর ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে তাকে খাওয়ান। এর ২-৩ দিন পর নারীর প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে তিনি জিসানের চাচাতো ভাই সজীবকে বিষয়টি জানান। সজীবের মাধ্যমে জিসান পুনরায় ওষুধ পাঠান। রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

তাদের বিয়ের কথা ছিল গত শুক্রবার (১২ জুন)। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত আটটার পর বিয়ে না করার অজুহাতে জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন এবং তার চাচাতো ভাই রাসেলের মাধ্যমে দাউদকান্দি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করান। পরে শুক্রবার (১২ জুন) রাতে লাকসাম থেকে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা জিসান মিয়া প্রধানকে উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারীর করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে তুলতে বিলম্ব হচ্ছে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে তাকে আদালতে তোলা হবে।