ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ইসরায়েলের জন্য ‘তেতো বড়ি’: ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কে ফাটল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইরান চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এক ‘তেতো বড়ি’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ওপর কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতানিয়াহুর জন্য ট্রাম্পের এই আকস্মিক সমঝোতা এক বড় ধরনের ধাক্কা।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বলে ঘোষণা আসে, তখন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। চুক্তি বা এর শর্তাবলি সম্পর্কে ইসরায়েলকে পূর্বেই অবগত করা হয়নি বলে জানা গেছে।

চুক্তির বিরোধিতা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ইসরায়েলের এই সমঝোতা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘এখানে সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই, নেতানিয়াহু নয়। তার কোনো বিকল্প চয়েস থাকবে না।’

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা সরিয়ে ফেলতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে হবে। বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ ও তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ফেরত দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতামূলক অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং নেতানিয়াহু দেশটির সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্বাধীনভাবে’ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল নিজেদের স্বার্থ দেখছে, কিন্তু ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হুমকি এখানে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই অতি-আকস্মিক নীতি পরিবর্তন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দীর্ঘদিনের নিবিড় কূটনৈতিক সম্পর্কের ফাটলকে নতুন করে সামনে এনেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চক্ষু সেবায় বিএনএসবি ও সিইআইটিসির অবদান: বার্ষিক সাধারণ সভায় অগ্রগতি পর্যালোচনা

ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ইসরায়েলের জন্য ‘তেতো বড়ি’: ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কে ফাটল

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইরান চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য এক ‘তেতো বড়ি’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ওপর কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতানিয়াহুর জন্য ট্রাম্পের এই আকস্মিক সমঝোতা এক বড় ধরনের ধাক্কা।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বলে ঘোষণা আসে, তখন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। চুক্তি বা এর শর্তাবলি সম্পর্কে ইসরায়েলকে পূর্বেই অবগত করা হয়নি বলে জানা গেছে।

চুক্তির বিরোধিতা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ইসরায়েলের এই সমঝোতা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘এখানে সব সিদ্ধান্ত আমিই নিই, নেতানিয়াহু নয়। তার কোনো বিকল্প চয়েস থাকবে না।’

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা সরিয়ে ফেলতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে হবে। বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ ও তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে এবং আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ফেরত দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতামূলক অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং নেতানিয়াহু দেশটির সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্বাধীনভাবে’ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল নিজেদের স্বার্থ দেখছে, কিন্তু ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হুমকি এখানে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই অতি-আকস্মিক নীতি পরিবর্তন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দীর্ঘদিনের নিবিড় কূটনৈতিক সম্পর্কের ফাটলকে নতুন করে সামনে এনেছে।