প্রথম স্ত্রীর কথা গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন সাব্বির আহমেদ সাদান নামের এক ছাত্রদল নেতা। শুক্রবার রাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সোনাকান্দা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
সাব্বির আহমেদ সাদান নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতি এবং বাঘমারা গ্রামের আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে। তার বাবা আসাদুজ্জামান আজাদ মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাব্বির আহমেদ সাদান ২০২২ সালে প্রতিবেশী ধনাই মিয়ার মেয়ে আয়মনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তারা গোপনে সংসার করে আসছিলেন। কিন্তু প্রথম বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে তিনি উপজেলার পাইকুরা ইউনিয়নের কৃষকদলের সভাপতি শাজাহান মিয়ার মেয়েকে বিয়ে করতে যান। শুক্রবার বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছলে খবর পেয়ে প্রথম স্ত্রী আয়মনা আক্তারের বাবা কনে পক্ষকে বিষয়টি জানান। এতে কনে পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বরযাত্রীদের আটকে রেখে মারধর করেন। পরে কয়েক দফা আলোচনার পর ওই ছাত্রদল নেতা ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পান।
জরিমানা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পরপরই শনিবার সাব্বির আহমেদ সাদানের লোকজন আয়মনা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আয়মনা আক্তারের বড় বোন সুমনা আক্তার আহত হলে তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আয়মনার পরিবার ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ ব্যাপারে কনের বাবা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহাজান মিয়া জানান, ছেলে যে আগে বিয়ে করেছে, সে বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। জেনেশুনে তো আর মেয়েকে বিবাহিত ছেলের কাছে বিয়ে দিতে পারেন না। তবে জরিমানা আদায়ের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
সাদানের বাবা আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, তার ছেলে আগে একটি বিয়ে করেছে, এটা তার জানা ছিল না। আগে জানলে তো আর ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হতো না।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসীম কুমার দাস জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিয়ে সংক্রান্ত ঘটনায় এক নারীকে মারধর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























