রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে লাশ মর্গে আটকে রাখার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। পরে দুপুর ৩টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ হস্তান্তর করলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেন।
রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বজনরা অভিযোগ করেন, তারা চিকিৎসককে অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ করলেও প্রথমে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই অবস্থায় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তার মৃত্যু হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বজনরা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ মর্গে রেখে দেয় এবং জরুরি বিভাগের কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখে।
নিহত নুর নাহার বেগমের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি মেডিকেলের চিকিৎসা নিতে এসে যদি এই পরিণতি হয়, তাহলে মানুষ কীভাবে আসবে? আমি আমার মায়ের লাশ চাই।”
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, রোগী শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এজাহার দাখিল করবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























