ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় মেধাবীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেবে সরকার

দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ ঋণ কর্মসূচি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান বিশ্ব দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল এবং সরকার চায় দেশের তরুণরা কেবল সাধারণ ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করুক।

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ব্যয় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে সরকার ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় কোনো বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার বিশেষ কোর্স চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এসব ভাষা শিখে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা লাভ করবেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু আরও জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এই ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম রাখা হবে এবং পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পর ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। সরকার নিশ্চিত করবে যেন কোনো শিক্ষার্থীকে এই ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রশাসনিক জটিলতা বা হয়রানির শিকার হতে না হয়। সরকার বিদেশে শিক্ষার্থীদের পাঠানোর এই উদ্যোগকে ‘ব্রেইন ড্রেন’ হিসেবে না দেখে বরং ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ হিসেবে বিবেচনা করছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে একসময় কাজে লাগবে। পাশাপাশি, প্রবাসে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে এবার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় মেধাবীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেবে সরকার

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার একটি বিশেষ ঋণ কর্মসূচি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান বিশ্ব দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল এবং সরকার চায় দেশের তরুণরা কেবল সাধারণ ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করুক।

বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ব্যয় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে সরকার ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় কোনো বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষার বিশেষ কোর্স চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এসব ভাষা শিখে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা লাভ করবেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু আরও জানান, বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এই ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম রাখা হবে এবং পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশের পর ঋণ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। সরকার নিশ্চিত করবে যেন কোনো শিক্ষার্থীকে এই ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার প্রশাসনিক জটিলতা বা হয়রানির শিকার হতে না হয়। সরকার বিদেশে শিক্ষার্থীদের পাঠানোর এই উদ্যোগকে ‘ব্রেইন ড্রেন’ হিসেবে না দেখে বরং ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ হিসেবে বিবেচনা করছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দেশের উন্নয়নে একসময় কাজে লাগবে। পাশাপাশি, প্রবাসে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে এবার ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।