ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও জোরপূর্বক ‘পুশ-ইন’ বন্ধের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে গণমিছিল করেছে বাংলাদেশী বিহারী পুনর্বাসন সংসদ (বিবিআরএ)। শুক্রবার সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত এই গণমিছিল মিরপুর-১২ এলাকার কুর্মিটোলা বায়তুর রহমত মসজিদ থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১১ এর বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘We Want Justice for Biharis’, ‘অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন কর’, ‘How far Biharis Rehabilitation’, ‘BSF হত্যা বন্ধ কর’ ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। বিবিআরএ পল্লবী শাখার সভাপতি মো. শাবানের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক নেয়াজ আহমদ খান।
মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তারা সীমান্তে প্রাণহানি ও জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের ঘটনা বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। তারা সীমান্ত হত্যা বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে শবে বরাতের রাতে কুর্মিটোলা ক্যাম্পে পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে ১০ জনের বেশি নিরীহ বিহারী নারী-শিশুসহ মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও এই নৃশংস গণহত্যার কোনো বিচার হয়নি। বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করার দাবি জানান।
সমাবেশে বিবিআরএ নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার যদি বিচারহীনতার পথে হাঁটে, তবে বিহারী নেতৃবৃন্দ এই গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করতে বাধ্য হবেন। বক্তারা আরও বলেন, বিহারী ক্যাম্পসহ সারা দেশ থেকে মাদক নির্মূল, থানায় ডেকে বিচার-শালিস বন্ধ এবং অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে বিহারীদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো: জাহিদ, বিহারী নেতা আরমান দিল্লিওয়ালা, সুলতান আহমদ, মাহতাব ভাসানী, সাব্বির, রিয়াজুদ্দিন মুকুল, ফায়সাল, আনিসুর রহমান বেচু, লিজা বেগম, আসমা বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টারের নাম 




















