ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সংগ্রাম ও সাফল্যের অনন্য নাম শিক্ষক তাহমিনা পারভীন

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার এক অদম্য সাহসী ও অনুপ্রেরণাদায়ী নারী তাহমিনা পারভীন। শৈশবে পিতৃহীন হয়ে চরম দারিদ্র্য আর সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হওয়া এই নারী আজ সমাজের জন্য এক আলোকবর্তিকা। মাত্র দুই বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর মা নূরুন্নাহারের অসীম ত্যাগ ও পরিশ্রমে শিক্ষিত হয়ে ওঠেন তাহমিনা ও তার ভাই-বোনেরা। অভাবের তাড়নায় নানাবাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়ার সেই কঠিন দিনগুলো আজ তার সাফল্যের সোপান।

শিক্ষকতাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা তাহমিনা পারভীন গত ২৫ বছর ধরে জকিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। তার নিষ্ঠা, সৃজনশীল পাঠদান এবং মানবিক আচরণ তাকে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। কর্মজীবনের ব্যস্ততা ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যেও তিনি ২০২৪ সালে মাস্টার্স পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৯৮ অর্জন করে শিক্ষার প্রতি তার প্রবল অনুরাগের প্রমাণ দিয়েছেন।

বর্তমানে তার এক ভাই সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্য ভাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। নিজের মেধা ও একাগ্রতা দিয়ে তাহমিনা পারভীন প্রমাণ করেছেন যে, দৃঢ় মনোবল থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব। জকিগঞ্জের এই আলোকিত শিক্ষকের জীবনকাহিনী এখন স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সংগ্রামী মানুষের জন্য সাহস ও নতুন করে বাঁচার প্রেরণা যোগাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন দেশের যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপ: ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

সংগ্রাম ও সাফল্যের অনন্য নাম শিক্ষক তাহমিনা পারভীন

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার এক অদম্য সাহসী ও অনুপ্রেরণাদায়ী নারী তাহমিনা পারভীন। শৈশবে পিতৃহীন হয়ে চরম দারিদ্র্য আর সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যে বড় হওয়া এই নারী আজ সমাজের জন্য এক আলোকবর্তিকা। মাত্র দুই বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর মা নূরুন্নাহারের অসীম ত্যাগ ও পরিশ্রমে শিক্ষিত হয়ে ওঠেন তাহমিনা ও তার ভাই-বোনেরা। অভাবের তাড়নায় নানাবাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়ার সেই কঠিন দিনগুলো আজ তার সাফল্যের সোপান।

শিক্ষকতাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা তাহমিনা পারভীন গত ২৫ বছর ধরে জকিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। তার নিষ্ঠা, সৃজনশীল পাঠদান এবং মানবিক আচরণ তাকে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছে। কর্মজীবনের ব্যস্ততা ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যেও তিনি ২০২৪ সালে মাস্টার্স পরীক্ষায় সিজিপিএ ৩.৯৮ অর্জন করে শিক্ষার প্রতি তার প্রবল অনুরাগের প্রমাণ দিয়েছেন।

বর্তমানে তার এক ভাই সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্য ভাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। নিজের মেধা ও একাগ্রতা দিয়ে তাহমিনা পারভীন প্রমাণ করেছেন যে, দৃঢ় মনোবল থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব। জকিগঞ্জের এই আলোকিত শিক্ষকের জীবনকাহিনী এখন স্থানীয় পর্যায়ে অনেক সংগ্রামী মানুষের জন্য সাহস ও নতুন করে বাঁচার প্রেরণা যোগাচ্ছে।