বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাংলাদেশের ৬৪ হাজার বর্গমাইল জুড়ে এক অনন্য উৎসবের আমেজ। শহর থেকে গ্রাম—প্রতিটি অলিগলিতে তখন বইতে থাকে ফুটবলের হাওয়া। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, সবখানিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ফুটবল। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়, তা অনেক সময় বিশ্বকাপের মূল ভেন্যুর উত্তাপকেও হার মানায়। এটি কেবল একটি খেলা নয়, বরং বাঙালির আবেগ ও দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বকাপের সময় দেশের আনাচে-কানাচে আকাশচুম্বী পতাকার লড়াই শুরু হয়। নীল-সাদা আর হলুদ-সবুজ পতাকায় ছেয়ে যায় বাড়ির ছাদ, রিকশার হ্যান্ডেল কিংবা গাছের ডাল। কেউ মেসির জাদুতে মুগ্ধ হয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থক, আবার কেউ পেলের উত্তরসূরি হিসেবে ব্রাজিলের ‘জোগো বোনিতো’ বা নান্দনিক ফুটবলের অনুসারী। গ্রামীণ জনপদে রাত জেগে বড় পর্দায় খেলা দেখা এবং গোলের পর আনন্দ মিছিল ও আতশবাজি ফোটানো এখন এ দেশের বিশ্বকাপ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাংলাদেশে ফুটবল সমর্থকদের এই বিভক্তি মূলত দুই কিংবদন্তিকে কেন্দ্র করে। একদল ম্যারাডোনা ও মেসির উত্তরসূরিদের আবেগে ভাসেন, অন্যদল ব্রাজিলের পাঁচবারের বিশ্বজয় এবং সাম্বা ফুটবলের ছন্দে মুগ্ধ। যদিও এই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ এবং তর্কাতর্কি চলে, তবে দিনশেষে এটি একটি নির্মল সামাজিক উৎসবে রূপ নেয়। পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানগুলো হয়ে ওঠে এক একটি মিনি স্টেডিয়াম, যেখানে সব বয়সী মানুষ এক হয়ে ফুটবলের জয়গান গায়।
রিপোর্টারের নাম 

























