আধুনিক ফুটবল কেবল খেলোয়াড়দের শারীরিক দক্ষতা বা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের লড়াই নয়, এটি এখন কোচদের এক বিশাল কৌশলগত দাবার বোর্ডে পরিণত হয়েছে। মাঠে ২২ জন খেলোয়াড় থাকলেও আসল লড়াইটা অনেক সময় টাচলাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুই কোচের মস্তিষ্কের মধ্যে চলে। কে কাকে আগে পড়তে পারছে, কে প্রতিপক্ষের ছক ভেঙে নতুন ছক বানাতে পারছে—এই প্রশ্নের উত্তরই অনেক সময় নির্ধারিত করে দেয় শিরোপার ভাগ্য। আধুনিক ফুটবলে ‘ফর্মেশন’ বা ছক আর স্থির কোনো ধারণা নয়; ম্যাচের মধ্যেই তা কয়েকবার পরিবর্তিত হয়। কখনো ৪-৩-৩ থেকে ৩-২-৫, কখনো আবার ডিফেন্সিভ ব্লক থেকে হাই প্রেসিংয়ে রূপ নেয় পুরো দল। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে থাকেন কোচরা, যারা একেকটি ম্যাচকে চলমান সমীকরণ হিসেবে দেখেন। আসন্ন বিশ্বকাপেও কোচদের এমন কৌশলগত লড়াই দেখা যাবে বলে আশা করা যায়।
আধুনিক ফুটবলের একটি বড় বিপ্লব হলো ‘প্রেসিং’। এর মূল ধারণা হলো বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা। ‘গেগেন প্রেসিং’ হলো এর সবচেয়ে পরিচিত রূপ, যেখানে দল বল হারানোর পরই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে। ইয়ুর্গেন ক্লপ এই কৌশলকে জনপ্রিয় করেছেন, যার দলগুলোয় উচ্চগতির আক্রমণ এবং দ্রুত বল পুনরুদ্ধারের চাপ দেখা যায়। এই স্টাইল লিভারপুলকে ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন শক্তিতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলা প্রেসিংকে আরো কাঠামোবদ্ধ করেছেন। তার দলগুলোতে ‘পজিশনাল প্রেসিং’ গুরুত্বপূর্ণ—অর্থাৎ, নির্দিষ্ট জায়গা দখল করে প্রতিপক্ষকে ভুল করানো।
ফুটবলে একসময় স্ট্রাইকার মানেই ছিল একজন নির্দিষ্ট ফিনিশার। কিন্তু আধুনিক কৌশলে এই ধারণা ভেঙে গেছে। এখন অনেক কোচই ‘ফলস নাইন’ ব্যবহার করেন, যেখানে নামমাত্র স্ট্রাইকার নিচে নেমে এসে খেলা তৈরি করে। এই কৌশলকে বিশ্বমঞ্চে জনপ্রিয় করেছেন লুইস আরাগোনেস এবং পরে পেপ গার্দিওলা এটিকে আরো নিখুঁতভাবে ব্যবহার করেছেন। ফলস নাইন ব্যবহারের মাধ্যমে আক্রমণভাগে একজন অতিরিক্ত প্লেমেকার তৈরি হয়, যা প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনকে বিভ্রান্ত করে। ডিফেন্ডাররা বুঝতে পারে না কাকে মার্ক করবে, নাকি জায়গা ধরে রাখবে।
আধুনিক ফুটবলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো ‘ইনভার্টেড ফুলব্যাক’, যেখানে ফুলব্যাকরা আক্রমণের সময় উইংয়ে না থেকে মাঝমাঠে ঢুকে যায়। এই ধারণাটি সবচেয়ে বেশি বিকশিত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























