ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

রংপুরে আইনজীবীর ওপর হামলা, আটক ২

রংপুর আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর এবং অশালীন আচরণের অভিযোগে বাবা-ছেলেকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি থানা। এ ঘটনায় থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

আটক দুজন হলেন- আতিয়ার রহমান (৫৫) এবং তার ছেলে জোবায়দুর রহমান জাবেদ (২৮)। তারা নগরীর নিউ আদর্শপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এই ঘটনা ঘটে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের এডভোকেট ক্লার্ক সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার নবায়ন ও নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মাইকিং কার্যক্রম চলছিল। দুপুর ১২টার দিকে আদালত এলাকায় প্রচারকাজ পরিচালনার সময় অভিযুক্তরা আইনজীবী সমিতির কম্পিউটার অপারেটর মোকাদ্দেস এবং এমএলএসএস রাশেদের কাছ থেকে মাইক ছিনিয়ে নিয়ে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। প্রতিবাদ করলে তারা দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মাইক কেড়ে নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে এডভোকেট ক্লার্ক সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এ কে এম হারুন উর রশীদ আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে সমিতির সভাপতি অভিযুক্তদের নিজের সেরেস্তায় ডেকে পাঠান। সেখানে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তরা উত্তেজিত আচরণ করেন এবং আইনজীবীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কাঠের চেয়ার দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এ কে এম হারুন উর রশীদ এবং রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিবের ওপর হামলা চালান, এতে তারা আহত হন। এ সময় আইনজীবী সমিতির সভাপতির পরিহিত শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং সমিতির চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। পরবর্তীতে আইনজীবী সমিতির অন্যান্য সদস্য ও উপস্থিত জনতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দের উদ্যোগ নেওয়া হলে তারাও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল ইসলাম স্বপন সমিতির নির্দেশক্রমে কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

রংপুরে আইনজীবীর ওপর হামলা, আটক ২

আপডেট সময় : ১১:৩১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

রংপুর আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর এবং অশালীন আচরণের অভিযোগে বাবা-ছেলেকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি থানা। এ ঘটনায় থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

আটক দুজন হলেন- আতিয়ার রহমান (৫৫) এবং তার ছেলে জোবায়দুর রহমান জাবেদ (২৮)। তারা নগরীর নিউ আদর্শপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এই ঘটনা ঘটে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের এডভোকেট ক্লার্ক সমিতির নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার নবায়ন ও নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মাইকিং কার্যক্রম চলছিল। দুপুর ১২টার দিকে আদালত এলাকায় প্রচারকাজ পরিচালনার সময় অভিযুক্তরা আইনজীবী সমিতির কম্পিউটার অপারেটর মোকাদ্দেস এবং এমএলএসএস রাশেদের কাছ থেকে মাইক ছিনিয়ে নিয়ে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। প্রতিবাদ করলে তারা দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মাইক কেড়ে নেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি জানতে পেরে এডভোকেট ক্লার্ক সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এ কে এম হারুন উর রশীদ আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেন। এরপর বিকেল ৩টার দিকে সমিতির সভাপতি অভিযুক্তদের নিজের সেরেস্তায় ডেকে পাঠান। সেখানে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তরা উত্তেজিত আচরণ করেন এবং আইনজীবীদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কাঠের চেয়ার দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট এ কে এম হারুন উর রশীদ এবং রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিবের ওপর হামলা চালান, এতে তারা আহত হন। এ সময় আইনজীবী সমিতির সভাপতির পরিহিত শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং সমিতির চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। ঘটনায় আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। পরবর্তীতে আইনজীবী সমিতির অন্যান্য সদস্য ও উপস্থিত জনতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দের উদ্যোগ নেওয়া হলে তারাও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শহীদুল ইসলাম স্বপন সমিতির নির্দেশক্রমে কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।