ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ট্রাভেলস ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা পাচার: ‘গডফাদার’ বাবু ডিএনসির জালে

রাজধানীর প্রবেশপথে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় মাদক কারবারিরা তাদের পথ পরিবর্তন করলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে বাসে করে ইয়াবা পাচারকালে ‘মাদক সম্রাট’ বাবুল হোসেন ওরফে বাবু (৪৫) কে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

মঙ্গলবার দুপুরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান জানান, কেরাণীগঞ্জের বাসিন্দা বাবু দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে ইয়াবা সরবরাহের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে কেরাণীগঞ্জে মজুত করতেন এবং সেখান থেকে বাসে করে দক্ষিণবঙ্গে মাদকের বড় চালান পৌঁছে দিতেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বাবু ‘লিটন ট্রাভেলস’-এর একটি বাসে করে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি’র সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নির্দেশনায় একটি বিশেষ দল ধোলাইপাড় গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নেয়। নাসির উদ্দিন সর্দার মার্কেটের সামনে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করলে বাবুর আচরণে সন্দেহ হয়। পরে তাকে বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি করে তার হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে বিশেষ কায়দায় স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু স্বীকার করেছেন যে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও টেকনাফের ডিলারদের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে যশোর, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরের পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন। মহাসড়কে নজরদারি এড়াতে তিনি প্রতিনিয়ত রুট পরিবর্তন করতেন। তার এই চক্রে আরও বড় বড় অপরাধী জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ডিএমপি’র যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের ধরতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা এবং মাদক পাচারের রুট ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

ট্রাভেলস ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা পাচার: ‘গডফাদার’ বাবু ডিএনসির জালে

আপডেট সময় : ০৮:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

রাজধানীর প্রবেশপথে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় মাদক কারবারিরা তাদের পথ পরিবর্তন করলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে বাসে করে ইয়াবা পাচারকালে ‘মাদক সম্রাট’ বাবুল হোসেন ওরফে বাবু (৪৫) কে ১৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

মঙ্গলবার দুপুরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসি’র ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান জানান, কেরাণীগঞ্জের বাসিন্দা বাবু দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে ইয়াবা সরবরাহের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে কেরাণীগঞ্জে মজুত করতেন এবং সেখান থেকে বাসে করে দক্ষিণবঙ্গে মাদকের বড় চালান পৌঁছে দিতেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বাবু ‘লিটন ট্রাভেলস’-এর একটি বাসে করে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসি’র সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদের নির্দেশনায় একটি বিশেষ দল ধোলাইপাড় গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান নেয়। নাসির উদ্দিন সর্দার মার্কেটের সামনে বাসটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করলে বাবুর আচরণে সন্দেহ হয়। পরে তাকে বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি করে তার হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে বিশেষ কায়দায় স্কচটেপ ও টিস্যু দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবু স্বীকার করেছেন যে তিনি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও টেকনাফের ডিলারদের কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে যশোর, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুরের পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন। মহাসড়কে নজরদারি এড়াতে তিনি প্রতিনিয়ত রুট পরিবর্তন করতেন। তার এই চক্রে আরও বড় বড় অপরাধী জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ডিএমপি’র যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের ধরতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা এবং মাদক পাচারের রুট ভেঙে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।