ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক: ১০ হাজার কোটি টাকা চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার মূল কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমের নিয়োগ বিতর্ক। এই ঘটনার জেরে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি তারল্য ঘাটতি পূরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে। ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে সিআরআর (নগদ রিজার্ভ অনুপাত) ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সিআরআর বজায় রাখা হয়, কিন্তু ব্যাংকটি এখন সেই সীমার নিচে চলে গেছে। পূর্বে প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা থাকলেও তা কমে এখন ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, পূর্বে এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে ইসলামী ব্যাংক সিআরআর ঘাটতিতে পড়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি হিসাবে অর্থ জমা রাখতে ব্যর্থ হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় এবং সিআরআর ঘাটতি কাটিয়ে ওঠে। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় ব্যাংকে অস্থিরতা শুরু হয়। গত ২৪ মে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার তার নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছেন এবং টানা নবম দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিআরআর ঘাটতির কারণে ইসলামী ব্যাংক তারল্য সহায়তার জন্য চিঠি দিয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি

তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক: ১০ হাজার কোটি টাকা চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন

আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার মূল কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমের নিয়োগ বিতর্ক। এই ঘটনার জেরে গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আমানত তুলে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি তারল্য ঘাটতি পূরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে। ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে তাদের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে সিআরআর (নগদ রিজার্ভ অনুপাত) ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সিআরআর বজায় রাখা হয়, কিন্তু ব্যাংকটি এখন সেই সীমার নিচে চলে গেছে। পূর্বে প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা থাকলেও তা কমে এখন ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, পূর্বে এস আলম গ্রুপ নামে-বেনামে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ফলে ইসলামী ব্যাংক সিআরআর ঘাটতিতে পড়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলতি হিসাবে অর্থ জমা রাখতে ব্যর্থ হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায় এবং সিআরআর ঘাটতি কাটিয়ে ওঠে। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনরায় ব্যাংকে অস্থিরতা শুরু হয়। গত ২৪ মে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই একদল গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার তার নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছেন এবং টানা নবম দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিআরআর ঘাটতির কারণে ইসলামী ব্যাংক তারল্য সহায়তার জন্য চিঠি দিয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।