উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়ে থাকেন। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইন কলেজে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। আইন বিষয়ে পড়াশোনা মানেই শুধু আইনজীবী বা বিচারক হওয়া নয়, বরং এর মাধ্যমে বহুমুখী ক্যারিয়ার গড়ার এক বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হয়।
আইন বিষয়ে অধ্যয়নকালে শিক্ষার্থীরা সাংবিধানিক আইন, চুক্তি আইন, ফৌজদারি আইন, দেওয়ানি আইন, কোম্পানি আইন, শ্রম আইন, মানবাধিকার আইন, আন্তর্জাতিক আইন, পরিবেশ আইন, সাইবার আইন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আরও বিশেষায়িত বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। উচ্চশিক্ষার জন্য এলএলবি সম্পন্ন করার পর দেশ-বিদেশে এলএলএম, পিএইচডি কিংবা বার-অ্যাট-ল করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাইবার আইন, সমুদ্র আইন, অপরাধবিজ্ঞান, পরিবেশ আইন, করপোরেট আইন সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত ডিগ্রি অর্জন করা যায়।
আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা কেবল বিচারিক পেশাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন না। তারা বিসিএস, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস), বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা, ব্যাংক, বীমা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন আর্থিক খাতে চাকরির সুযোগ পান। বিশেষ করে, বিজেএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ কেবল আইন শিক্ষার্থীদের জন্যই সংরক্ষিত।
বর্তমানে প্রায় সকল ব্যাংক, কোম্পানি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থায় লিগ্যাল বিভাগ রয়েছে, যেখানে আইন কর্মকর্তা হিসেবে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, বিদেশি দূতাবাস, নির্বাচন কমিশন, দুদক, মানবাধিকার কমিশন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন বিষয়ে দক্ষ জনবলের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইন এমন একটি বিষয় যা একজন শিক্ষার্থীকে বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, করপোরেট খাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমানভাবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ করে দেয়।
রিপোর্টারের নাম 

























