ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মৌসুমি বায়ুর প্রবেশে বর্ষার সূচনা: দেশজুড়ে স্বস্তির প্রত্যাশা

অবশেষে দেশের আবহাওয়া বার্তা দিচ্ছে বর্ষার আগমনের। গতকাল শনিবার দুপুরে টেকনাফ উপকূল হয়ে মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রবেশ করেছে, যা বর্ষাকালের আনুষ্ঠানিক সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বায়ুপ্রবাহটি দেশের মধ্যাঞ্চলে পৌঁছাতে আরও দুদিন সময় লাগতে পারে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে সারা দেশে সক্রিয় হতে কয়েকদিন লেগে যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে মধ্য জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী ১২ বা ১৩ জুন থেকে কিছুটা বর্ষার বৃষ্টির আমেজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নোয়াখালীতে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিনের ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। রাজধানীতেও তাপমাত্রা বেড়ে ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মৌসুমি বায়ু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং আগামী ৮ বা ৯ জুন থেকে আবারও তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে দু-তিন দিন স্থায়ী হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ উপকূল দিয়ে প্রবেশ করা মৌসুমি বায়ু বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণত, মৌসুমি বায়ু জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করে থাকে, যদিও গত বছর তা ৩১ মে-তেই প্রবেশ করেছিল। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে আগামী কয়েকদিন এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে জনজীবন কিছুটা স্বস্তি পেলেও ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। মৌসুমি বায়ু প্রবেশের ফলে গ্রীষ্মকালীন উত্তর-পশ্চিম বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তে এখন দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর আগমন কৃষিখাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদের জন্য এই বৃষ্টিপাত সহায়ক হবে। তবে, টানা ভারী বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গতকাল দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় অসহনীয় তাপমাত্রার কিছুটা উপশম ঘটেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী

মৌসুমি বায়ুর প্রবেশে বর্ষার সূচনা: দেশজুড়ে স্বস্তির প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ০১:২৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

অবশেষে দেশের আবহাওয়া বার্তা দিচ্ছে বর্ষার আগমনের। গতকাল শনিবার দুপুরে টেকনাফ উপকূল হয়ে মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রবেশ করেছে, যা বর্ষাকালের আনুষ্ঠানিক সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বায়ুপ্রবাহটি দেশের মধ্যাঞ্চলে পৌঁছাতে আরও দুদিন সময় লাগতে পারে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে সারা দেশে সক্রিয় হতে কয়েকদিন লেগে যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে মধ্য জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী ১২ বা ১৩ জুন থেকে কিছুটা বর্ষার বৃষ্টির আমেজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নোয়াখালীতে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা আগের দিনের ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। রাজধানীতেও তাপমাত্রা বেড়ে ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মৌসুমি বায়ু সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং আগামী ৮ বা ৯ জুন থেকে আবারও তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে দু-তিন দিন স্থায়ী হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফ উপকূল দিয়ে প্রবেশ করা মৌসুমি বায়ু বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণত, মৌসুমি বায়ু জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করে থাকে, যদিও গত বছর তা ৩১ মে-তেই প্রবেশ করেছিল। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে আগামী কয়েকদিন এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে জনজীবন কিছুটা স্বস্তি পেলেও ভারী বর্ষণেরও আশঙ্কা রয়েছে। মৌসুমি বায়ু প্রবেশের ফলে গ্রীষ্মকালীন উত্তর-পশ্চিম বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তে এখন দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর আগমন কৃষিখাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও চাষাবাদের জন্য এই বৃষ্টিপাত সহায়ক হবে। তবে, টানা ভারী বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গতকাল দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় অসহনীয় তাপমাত্রার কিছুটা উপশম ঘটেছে।