আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, তারপরই শুরু হবে পবিত্র ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা—পশু কোরবানি। রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষ এখন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা, পশু আনা ও মাংস সংরক্ষণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে প্রতিবছরই দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে কিছু জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। কেউ ছুরি ধার দিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে পড়েন, কেউ আবার মাংস রাখার পর্যাপ্ত পাত্র বা পলিথিন না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন। এতে ঈদের সকালে বাড়তি চাপ ও অস্থিরতা তৈরি হয়।
কোরবানির প্রস্তুতিতে তাই আগে থেকেই কিছু বিষয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধারালো ছুরি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। পশুকে কম কষ্ট দিতে অভিজ্ঞরা সবসময় ভালোভাবে ধার দেওয়া ছুরি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। শুধু বড় ছুরি নয়, ছোট ছুরি, চাপাতি কিংবা দা—যা প্রয়োজন, সেগুলোও প্রস্তুত রাখা দরকার। অনেকে শেষ মুহূর্তে ছুরি ধার দিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে পড়েন; তাই আগেভাগে কাজটি সেরে রাখাই ভালো।
কোরবানির পর সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হয় মাংস ভাগ ও সংরক্ষণে। পর্যাপ্ত বাটি, গামলা, পলিথিন, ফুড গ্রেড ব্যাগ কিংবা প্লাস্টিক কন্টেইনার না থাকলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। ফ্রিজে জায়গা খালি আছে কিনা, বরফ প্রয়োজন হবে কিনা—এসব বিষয়ও আগে থেকে নিশ্চিত করা ভালো।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রস্তুতিও অত্যন্ত জরুরি। কোরবানির পর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করা না হলে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এজন্য ব্লিচিং পাউডার, জীবাণুনাশক, ডিটারজেন্ট, ময়লার ব্যাগ, ঝাড়ু ও পর্যাপ্ত পানি রাখতে হবে। অনেক এলাকায় সিটি করপোরেশন বর্জ্য অপসারণে বিশেষ ব্যবস্থা নিলেও নাগরিক সচেতনতার বিকল্প নেই।
ঈদের দিন সকালে কসাই সংকট প্রায় নিয়মিত চিত্র। তাই আগেই কসাই বা সহায়তাকারী শ্রমিক ঠিক করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিজ্ঞরা। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ঈদের দিন হঠাৎ কসাই খুঁজতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় অনেককে।
এছাড়াও, ঈদের দিন অতিরিক্ত চাপের কারণে কোথাও কোথাও পানি বা বিদ্যুতের সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মোটর সচল আছে কিনা, পানির ড্রাম ভর্তি আছে কিনা কিংবা প্রয়োজনীয় চার্জলাইট প্রস্তুত আছে কিনা—সেটিও দেখে নেওয়া জরুরি। কোরবানির সময় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ধারালো সরঞ্জাম ও পশুর কাছ থেকে শিশুদের নিরাপদ দূরত্বে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অভিভাবকরা, কারণ অনেক শিশু পশুর প্রতি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে।
রিপোর্টারের নাম 





















