কোরবানি আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের এক অন্যতম ইবাদত। তবে এটি কবুল হওয়ার জন্য বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে আন্তরিকতা ও শুদ্ধ নিয়ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোরবানির মাংস ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং মানুষের তাকওয়া বা আল্লাহভীতিই তাঁর কাছে পৌঁছায়। কোরবানির ইবাদতটি কবুল হওয়ার জন্য ছয়টি বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় তা বিফলে যেতে পারে।
প্রথমত, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। যদি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য, যেমন—মানুষকে দেখানো বা সুনাম কুড়ানো থাকে, তবে তা কবুল হবে না। বিশেষ করে, যৌথ কোরবানির ক্ষেত্রে কোনো একজন শরিকেরও নিয়ত ত্রুটিপূর্ণ থাকলে তা সকলের কোরবানিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, হারাম বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে পশু কেনা হলে তা কোনোভাবেই কবুল হবে না। হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ কেবল পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।
তৃতীয়ত, দামি পশু কিনে লোক দেখানো বা মানুষের প্রশংসা কুড়ানো মানসিকতা থাকলে সেই কোরবানি কেবল একটি পশু জবাই হিসেবে গণ্য হবে, ইবাদত হিসেবে নয়। আল্লাহ কেবল আল্লাহভীরুদের আমলই কবুল করেন। চতুর্থত, যৌথ কোরবানিতে প্রত্যেক শরিকের অংশ সমান হওয়া আবশ্যক। গরু, মহিষ বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন অংশ নিতে পারেন, কিন্তু যদি কারো অংশ কমবেশি হয়, তবে সেই কোরবানি সহিহ হবে না। পঞ্চমত, কোরবানির মাংস গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিতরণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি মূল লক্ষ্য মাংস জমা রাখা হয় এবং আল্লাহর হুকুম পালন গৌণ হয়ে যায়, তবে সেই কোরবানি কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। ষষ্ঠত, পশুর জবাইয়ের স্থান বা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পশুর প্রতি সদয় আচরণ করাও জরুরি।
রিপোর্টারের নাম 

























