ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

কোটা সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুললো ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট: ‘বাবা-মা আইএএস হলে সন্তান কেন কোটা পাবে?’

যেসব পরিবার কোটা সুবিধা নিয়ে শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে, তাদের সন্তানরা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) কোটার সুবিধা পাওয়া অব্যাহত রাখবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, এ ধরনের অগ্রগতির ফলে সমাজে ওই পরিবারের সামাজিক মর্যাদারও পরিবর্তন ঘটে।

বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের শুনানিকালে এই পর্যবেক্ষণ দেন। কর্ণাটক হাইকোর্ট তার রায়ে আবেদনকারীকে অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে তুলনামূলক ধনী বা সুবিধাপ্রাপ্ত অংশ হিসেবে গণ্য করে কোটা সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিলেন। উল্লেখ্য, আবেদনকারীর বাবা-মা দুজনেই রাজ্য সরকারের কর্মচারী।

মামলার শুনানিকালে বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন বলেন, ‘যদি বাবা-মা দুজনেই ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (আইএএস) কর্মকর্তা হন, তবে তাদের সন্তানরা কেন কোটা সুবিধা পাবে? শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের হাত ধরে সামাজিক মর্যাদার পরিবর্তন আসে। এর পরও যদি সন্তানরা কোটা সুবিধা পেতে চায়, তবে আমরা কখনও এই বৃত্ত থেকে বের হতে পারব না।’

বিচারপতি নাগারত্ন আরও বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তা ছাড়া, এর উপযোগিতাই বা কী রইলো? আপনি কোটা সুবিধা দিচ্ছেন; বাবা-মা পড়াশোনা করেছেন, ভালো চাকরি করছেন, ভালো আয় করছেন এবং তাদের সন্তানরা আবারও কোটা সুবিধা চাইছে। দেখুন, তাদের কোটার সুবিধা থেকে বের হয়ে আসা উচিত।’

মামলাটি কর্নাটকের অনগ্রসর শ্রেণির ‘ক্যাটাগরি ২(এ)’ ভুক্ত কুরুবা সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থীকে কেন্দ্র করে। তিনি সংরক্ষিত কোটার অধীনে কর্নাটকা পাওয়ার ট্রান্সমিশন কর্পোরেশন লিমিটেড-এ সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে জেলা জাতি ও আয় যাচাইকরণ কমিটি এই উপসংহারে পৌঁছায় যে, ওই প্রার্থী অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে তুলনামূলক ধনী বা সুবিধাপ্রাপ্ত। প্রার্থীর পরিবারের বার্ষিক আয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৯ লাখ ৪৮ হাজার রুপি।

শুনানিকালে বিচারপতি নাগারত্ন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিবার সামাজিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার পরও কোটা সুবিধা অব্যাহত থাকছে। অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদার উন্নতি হয়। তাই যেসব প্রার্থীর বাবা-মা শিক্ষিত, ভালো চাকরিতে নিয়োজিত, তাদের সন্তানরা একই সুবিধা পেতে পারে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা: সত্য ও মিথ্যার এক অসম লড়াইয়ের ইতিহাস

কোটা সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুললো ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট: ‘বাবা-মা আইএএস হলে সন্তান কেন কোটা পাবে?’

আপডেট সময় : ০৭:১৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

যেসব পরিবার কোটা সুবিধা নিয়ে শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছে, তাদের সন্তানরা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) কোটার সুবিধা পাওয়া অব্যাহত রাখবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, এ ধরনের অগ্রগতির ফলে সমাজে ওই পরিবারের সামাজিক মর্যাদারও পরিবর্তন ঘটে।

বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কর্ণাটক হাইকোর্টের একটি রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনের শুনানিকালে এই পর্যবেক্ষণ দেন। কর্ণাটক হাইকোর্ট তার রায়ে আবেদনকারীকে অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে তুলনামূলক ধনী বা সুবিধাপ্রাপ্ত অংশ হিসেবে গণ্য করে কোটা সুবিধা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছিলেন। উল্লেখ্য, আবেদনকারীর বাবা-মা দুজনেই রাজ্য সরকারের কর্মচারী।

মামলার শুনানিকালে বিচারপতি বি ভি নাগারত্ন বলেন, ‘যদি বাবা-মা দুজনেই ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (আইএএস) কর্মকর্তা হন, তবে তাদের সন্তানরা কেন কোটা সুবিধা পাবে? শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের হাত ধরে সামাজিক মর্যাদার পরিবর্তন আসে। এর পরও যদি সন্তানরা কোটা সুবিধা পেতে চায়, তবে আমরা কখনও এই বৃত্ত থেকে বের হতে পারব না।’

বিচারপতি নাগারত্ন আরও বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তা ছাড়া, এর উপযোগিতাই বা কী রইলো? আপনি কোটা সুবিধা দিচ্ছেন; বাবা-মা পড়াশোনা করেছেন, ভালো চাকরি করছেন, ভালো আয় করছেন এবং তাদের সন্তানরা আবারও কোটা সুবিধা চাইছে। দেখুন, তাদের কোটার সুবিধা থেকে বের হয়ে আসা উচিত।’

মামলাটি কর্নাটকের অনগ্রসর শ্রেণির ‘ক্যাটাগরি ২(এ)’ ভুক্ত কুরুবা সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থীকে কেন্দ্র করে। তিনি সংরক্ষিত কোটার অধীনে কর্নাটকা পাওয়ার ট্রান্সমিশন কর্পোরেশন লিমিটেড-এ সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে জেলা জাতি ও আয় যাচাইকরণ কমিটি এই উপসংহারে পৌঁছায় যে, ওই প্রার্থী অনগ্রসর শ্রেণির মধ্যে তুলনামূলক ধনী বা সুবিধাপ্রাপ্ত। প্রার্থীর পরিবারের বার্ষিক আয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৯ লাখ ৪৮ হাজার রুপি।

শুনানিকালে বিচারপতি নাগারত্ন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিবার সামাজিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার পরও কোটা সুবিধা অব্যাহত থাকছে। অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামাজিক মর্যাদার উন্নতি হয়। তাই যেসব প্রার্থীর বাবা-মা শিক্ষিত, ভালো চাকরিতে নিয়োজিত, তাদের সন্তানরা একই সুবিধা পেতে পারে না।