ঢাকা ০১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

পোস্তগোলা হাটে ক্রেতার অপেক্ষায় বেপারীরা: জমে ওঠেনি কোরবানির পশুর বাজার

কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে তত বাড়ছে গরুর সরবরাহ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকভর্তি পশু এসে পৌঁছাচ্ছে ঢাকার হাটগুলোতে। রাজধানীর দক্ষিণ অংশের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট পোস্তগোলাতেও এখন কোরবানির প্রস্তুতির ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। তবে হাটে গরুর সারি বাড়লেও এখনও প্রত্যাশিত ক্রেতার দেখা মিলছে না। তাই শেষ মুহূর্তের বেচাকেনার আশায় দিন গুনছেন বেপারীরা। গরুর ডাক, খড়ের গন্ধ আর দরদামের আলাপে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরছে রাজধানীর কোরবানির বাজারে।

বেপারীরা বলছেন, ঢাকার ক্রেতারা সাধারণত ঈদের এক-দুই দিন আগে গরু কেনেন। তাই এখন হাটে মানুষ এলেও অধিকাংশই কেবল গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম যাচাই করছেন কিংবা ছবি তুলে রাখছেন।

শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিনে পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট এলাকার পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে গরু বেঁধে রেখেছেন বেপারীরা। কোথাও সামিয়ানা টানিয়ে, কোথাও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে রাখা হয়েছে পশুদের জন্য। কেউ গরুকে খড় খাওয়াচ্ছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ক্রেতাদের সঙ্গে দরদামে।

হাটজুড়ে এখনও ঈদের আগের শেষ সময়ের সেই উপচে পড়া ভিড় নেই। তবে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে বেচাবিক্রির পরিবেশ। অনেক ক্রেতা পরিবার নিয়ে হাটে এসে গরু দেখছেন, দাম যাচাই করছেন কিংবা মোবাইলে ছবি তুলে রাখছেন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ১১টি গরু নিয়ে এসেছেন মো. রানা বেপারী। তিনি বলেন, “এখনও আসল ক্রেতা নামেনি হাটে। যারা আসছেন তারা গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন। কেউ কেউ ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকার মানুষ সাধারণত আগে গরু কেনেন না। কারণ গরু রাখার জায়গা কম, পরিচর্যারও ঝামেলা আছে। তাই ঈদের দুই-এক দিন আগে কিনতে আসেন রাজধানীবাসী। তবে আশা করছি শেষ পর্যন্ত সব গরুই বিক্রি হবে।”

ফরিদপুর থেকে চারটি গরু নিয়ে আসা বেপারী মিজানুর হাওলাদারও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এখনও কাস্টমার কম। তবে আর দুই-এক দিনের মধ্যে বাজার জমে উঠবে। তখন বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।”

ভাঙা থেকে গরু নিয়ে আসা রেজাউল করিম জানান, প্রতিবছরই তিনি এই হাটে গরু বিক্রি করতে আসেন। এবার তার সঙ্গে ভাতিজা এবং পাশের গ্রাম থেকে আরও কয়েকজন এসেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা: সত্য ও মিথ্যার এক অসম লড়াইয়ের ইতিহাস

পোস্তগোলা হাটে ক্রেতার অপেক্ষায় বেপারীরা: জমে ওঠেনি কোরবানির পশুর বাজার

আপডেট সময় : ০৭:১৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে তত বাড়ছে গরুর সরবরাহ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকভর্তি পশু এসে পৌঁছাচ্ছে ঢাকার হাটগুলোতে। রাজধানীর দক্ষিণ অংশের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট পোস্তগোলাতেও এখন কোরবানির প্রস্তুতির ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। তবে হাটে গরুর সারি বাড়লেও এখনও প্রত্যাশিত ক্রেতার দেখা মিলছে না। তাই শেষ মুহূর্তের বেচাকেনার আশায় দিন গুনছেন বেপারীরা। গরুর ডাক, খড়ের গন্ধ আর দরদামের আলাপে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরছে রাজধানীর কোরবানির বাজারে।

বেপারীরা বলছেন, ঢাকার ক্রেতারা সাধারণত ঈদের এক-দুই দিন আগে গরু কেনেন। তাই এখন হাটে মানুষ এলেও অধিকাংশই কেবল গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম যাচাই করছেন কিংবা ছবি তুলে রাখছেন।

শুক্রবার (২২ মে) সরেজমিনে পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট এলাকার পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে গরু বেঁধে রেখেছেন বেপারীরা। কোথাও সামিয়ানা টানিয়ে, কোথাও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে রাখা হয়েছে পশুদের জন্য। কেউ গরুকে খড় খাওয়াচ্ছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ক্রেতাদের সঙ্গে দরদামে।

হাটজুড়ে এখনও ঈদের আগের শেষ সময়ের সেই উপচে পড়া ভিড় নেই। তবে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে বেচাবিক্রির পরিবেশ। অনেক ক্রেতা পরিবার নিয়ে হাটে এসে গরু দেখছেন, দাম যাচাই করছেন কিংবা মোবাইলে ছবি তুলে রাখছেন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ১১টি গরু নিয়ে এসেছেন মো. রানা বেপারী। তিনি বলেন, “এখনও আসল ক্রেতা নামেনি হাটে। যারা আসছেন তারা গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন। কেউ কেউ ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকার মানুষ সাধারণত আগে গরু কেনেন না। কারণ গরু রাখার জায়গা কম, পরিচর্যারও ঝামেলা আছে। তাই ঈদের দুই-এক দিন আগে কিনতে আসেন রাজধানীবাসী। তবে আশা করছি শেষ পর্যন্ত সব গরুই বিক্রি হবে।”

ফরিদপুর থেকে চারটি গরু নিয়ে আসা বেপারী মিজানুর হাওলাদারও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এখনও কাস্টমার কম। তবে আর দুই-এক দিনের মধ্যে বাজার জমে উঠবে। তখন বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।”

ভাঙা থেকে গরু নিয়ে আসা রেজাউল করিম জানান, প্রতিবছরই তিনি এই হাটে গরু বিক্রি করতে আসেন। এবার তার সঙ্গে ভাতিজা এবং পাশের গ্রাম থেকে আরও কয়েকজন এসেছেন।