জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং সর্বশেষ সাক্ষী মো. আলমগীরকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর জেরা করার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী রোববার (১২ অক্টোবর) যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
মোট ২৮ কার্যদিবসে এই মামলার ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলো। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ হওয়ার মাধ্যমে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা ৫৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছেন এবং সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন সাংবাদিকদের কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তিনি মনে করেন সাক্ষীদের জবানবন্দিতে এখন পর্যন্ত যা উঠে এসেছে, তাতে তিনি তার আসামিদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবেন।
এই মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অপর দুই আসামি হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। উল্লেখ্য, আসামিদের মধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে এই মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।
জেরার সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এমএইচ তামীম সহ আরও অনেকে। এই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মো. জানে আলম খান, এবং পরবর্তীতে উপ-পরিচালক মো. আলমগীর তদন্তের দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে ৩১ মে সম্পূরক অভিযোগ দেওয়া হয় এবং ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল গত ১০ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
রিপোর্টারের নাম 

























