ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

আল-আকসার কাছে ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি দখলে ইসরায়েলের নতুন উদ্যোগ

জেরুজালেমের ওল্ড সিটির পবিত্র আল-আকসা মসজিদের নিকটবর্তী ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ইসরায়েল সরকার। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য জেরুজালেম শহরকে ‘ইহুদিকরণ’ করা।

রবিবার ইসরায়েলি মন্ত্রীরা আল-আকসা মসজিদের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত পুরোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ কার্যকর করার জন্য একটি বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো এই পদক্ষেপকে ওল্ড সিটিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব জোরদার এবং জাফা গেট, ইহুদি কোয়ার্টার ও ওয়েস্টার্ন ওয়ালের সংযোগকারী পথগুলোকে সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর যেসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, সেগুলোর ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ মালিকানা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি নথিতে ওল্ড সিটির এই ঐতিহাসিক বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ ‘বাস্তবায়ন’ করার কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই কমিটি আইনি এবং পরিকল্পনাসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো খতিয়ে দেখবে, যা গত কয়েক দশক ধরে এই প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করছিল। জেরুজালেম পৌরসভার তথ্যমতে, এই আদেশের ফলে ১৫ থেকে ২০টি ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন বাড়ি ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চেইন গেট সড়কটি ওল্ড সিটির অন্যতম জনবহুল ও স্পর্শকাতর এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ একরিমা সাবরি জানান, এই পথটি সরাসরি আল-আকসার পশ্চিম গেটের দিকে গেছে এবং এর দুই পাশে মামলুক ও অটোমান আমলের শতবর্ষী ভবন, ঐতিহাসিক ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। নিশানা করা ভবনগুলোর অনেকগুলোই আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সের ইসলামি ওয়াকফ সম্পত্তি ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

শেখ একরিমা সাবরি বলেন, ‘দখলদারদের প্রতিটি পদক্ষেপই জেরুজালেমের নিজস্ব পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা। এটি এই শহরকে ইহুদিকরণের আরেকটি অপপ্রয়াস।’ গাজায় চলমান সংঘাত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ওল্ড সিটিতে ইসরায়েলের এমন আগ্রাসী পদক্ষেপে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যখন বিশ্ব মনোযোগ অন্যত্র নিবদ্ধ, তখন জেরুজালেমে ইসরায়েল এই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে বিহারিদের বিক্ষোভ: ডেসকোর ‘গায়েবি’ মামলা ও হয়রানি বন্ধের দাবি

আল-আকসার কাছে ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি দখলে ইসরায়েলের নতুন উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৮:০৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

জেরুজালেমের ওল্ড সিটির পবিত্র আল-আকসা মসজিদের নিকটবর্তী ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ইসরায়েল সরকার। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য জেরুজালেম শহরকে ‘ইহুদিকরণ’ করা।

রবিবার ইসরায়েলি মন্ত্রীরা আল-আকসা মসজিদের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত পুরোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ কার্যকর করার জন্য একটি বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো এই পদক্ষেপকে ওল্ড সিটিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব জোরদার এবং জাফা গেট, ইহুদি কোয়ার্টার ও ওয়েস্টার্ন ওয়ালের সংযোগকারী পথগুলোকে সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর যেসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, সেগুলোর ওপর রাষ্ট্রের পূর্ণ মালিকানা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি নথিতে ওল্ড সিটির এই ঐতিহাসিক বাজেয়াপ্তকরণ আদেশ ‘বাস্তবায়ন’ করার কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই কমিটি আইনি এবং পরিকল্পনাসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো খতিয়ে দেখবে, যা গত কয়েক দশক ধরে এই প্রক্রিয়াটিকে বাধাগ্রস্ত করছিল। জেরুজালেম পৌরসভার তথ্যমতে, এই আদেশের ফলে ১৫ থেকে ২০টি ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন বাড়ি ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চেইন গেট সড়কটি ওল্ড সিটির অন্যতম জনবহুল ও স্পর্শকাতর এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ একরিমা সাবরি জানান, এই পথটি সরাসরি আল-আকসার পশ্চিম গেটের দিকে গেছে এবং এর দুই পাশে মামলুক ও অটোমান আমলের শতবর্ষী ভবন, ঐতিহাসিক ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। নিশানা করা ভবনগুলোর অনেকগুলোই আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সের ইসলামি ওয়াকফ সম্পত্তি ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত।

শেখ একরিমা সাবরি বলেন, ‘দখলদারদের প্রতিটি পদক্ষেপই জেরুজালেমের নিজস্ব পরিচয় পরিবর্তনের চেষ্টা। এটি এই শহরকে ইহুদিকরণের আরেকটি অপপ্রয়াস।’ গাজায় চলমান সংঘাত এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ওল্ড সিটিতে ইসরায়েলের এমন আগ্রাসী পদক্ষেপে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, যখন বিশ্ব মনোযোগ অন্যত্র নিবদ্ধ, তখন জেরুজালেমে ইসরায়েল এই ধরনের কাজ করে যাচ্ছে।