ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাস্তায় বা গণপরিবহনের চলাচলের পথ বন্ধ করে নামাজ আদায়ের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাস্তা বন্ধ করে এ ধরনের গণজমায়েত তার সরকার কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তর প্রদেশ প্রশাসন প্রথমে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে এই নিয়ম কার্যকরের চেষ্টা করবে। তবে সেই পদ্ধতিতে কাজ না হলে জনশৃঙ্খলার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘আপনাদের নামাজ পড়তে হবে, আপনারা ধাপে ধাপে ভাগ হয়ে তা পড়তে পারেন। আমরা আপনাদের ভালোবাসার সঙ্গে বোঝাব, আর তাতে যদি কাজ না হয়, তবে অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে।’
আদিত্যনাথ আরও বলেছেন, রাস্তা মূলত সাধারণ পথচারী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, রোগী ও জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলের জন্য। সেখানে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়। মোড় বা চৌরাস্তাগুলোকে জমায়েতের স্থানে পরিণত করার অধিকার কারও নেই। তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হয়, উত্তর প্রদেশে কি আসলেই মানুষ রাস্তায় নামাজ পড়ে না? আমি স্পষ্টভাবে বলি, একেবারেই না। আপনারা নিজেরা গিয়ে দেখে আসতে পারেন। রাস্তা চলাচলের জন্য তৈরি। কেউ কি এসে চৌরাস্তায় তামাশা তৈরি করে যান চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে? সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করার কী অধিকার আছে কারও?’
আইন সবার জন্য সমান এবং পাবলিক প্লেসের অপব্যবহার করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নামাজ বন্ধ করব না, তবে এটি রাস্তায় হওয়া চলবে না।’ এই প্রভাবশালী নেতা অবশ্য এবারই প্রথম প্রকাশ্য স্থানে নামাজ আদায়ের বিরোধিতা করলেন এমন নয়। এর আগেও তিনি প্রকাশ্য স্থানে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য একটি রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। যোগী আদিত্যনাথের এই সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে একটি মুসলিম রাজনৈতিক দল। দলের মুখপাত্র অভিযোগ করেছেন যে, উত্তর প্রদেশ সরকার নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 






















