শিল্প ও সংস্কৃতি যেকোনও উন্নত গণতান্ত্রিক সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিল্পীর তুলি, কার্টুনিস্টের রেখা, লেখকের কলম, আলোকচিত্রীর লেন্স বা মঞ্চের ভাষা কেবল নান্দনিকতাই চর্চা করে না, বরং তা সমাজের ক্ষমতা কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ক্ষমতার সমীকরণকে জনসমক্ষে উন্মোচন করে। কিন্তু যখন সমাজ কর্তৃত্ববাদ বা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অধীনে চলে যায়, তখন শাসকের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শৈল্পিক পরিসরকে সংকুচিত করা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কর্তৃত্ববাদের উত্থান-পতন এবং এর ফলে শিল্পী ও শিল্পের স্বাধীনতার প্রশ্নটি সবসময়ই এক তীব্র টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। বাংলাদেশে শিল্পের স্বাধীনতা কখনও স্থায়ী কোনও উপহার হিসেবে আসেনি, বরং তা সবসময়ই রাজপথের লড়াই এবং রাজনৈতিক ওঠানামার মধ্য দিয়ে অর্জিত এক ভঙ্গুর অধিকার।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের শাসনকাল এক কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে। এই দীর্ঘ শাসনামলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে এককেন্দ্রিক করার সমান্তরালে মুক্তচিন্তা, ভিন্নমত এবং শৈল্পিক স্বাধীনতার ওপর এক অভূতপূর্ব ও কাঠামোগত অবদমন নেমে এসেছে। উন্নয়নের আড়ালে স্বৈরাচারী মনস্তত্ত্ব কীভাবে বাংলাদেশের স্বাধীন শিল্পচর্চাকে পঙ্গু করেছে এবং শিল্পীদের স্ব-সেন্সরশিপের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তা একটি গভীর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পর্যালোচনার দাবি রাখে। শেখ হাসিনার আমলে শিল্প ও শৈল্পিক স্বাধীনতার নিয়ন্ত্রণে মূলত চারটি মন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে: আইনি শৃঙ্খল ও ভয়ের সংস্কৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণ ও প্রচারযন্ত্রে রূপান্তর, মনস্তাত্ত্বিক অবদমন, স্ব-সেন্সরশিপ (বিশেষ করে চলচ্চিত্র ও দৃশ্যশিল্পের ওপর অদৃশ্য সেন্সরশিপ) এবং অনুগত বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী শ্রেণি তৈরি।
শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে শিল্পী, সংস্কৃতি ও শৈল্পিক স্বাধীনতা হরণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল আইনকে একটি নিপীড়নমূলক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা। ২০১৮ সালে প্রণীত বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং পরবর্তীকালে নাম পরিবর্তন করে আনা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩’ ছিল মুক্তচিন্তা এবং শিল্পী ও শিল্পের পরিসরের ওপর বড় আইনি আঘাত। এই আইনের অধীনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা যেকোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরকারের নীতি, দুর্নীতি বা শীর্ষ নেত…
রিপোর্টারের নাম 

























