ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় জামায়াত-এনসিপি, এখনো নীরব বিএনপি

স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন চলতি বছরের শেষ দিকে শুরু হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর মধ্যে। ইতোমধ্যে এনসিপি পাঁচটি সিটি করপোরেশন এবং শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। জামায়াতও বিভিন্ন পর্যায়ে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে বড় কোনো প্রস্তুতি বা কৌশল ঘোষণা করেনি। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যেহেতু এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, তাই প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে আগে দলে আলোচনা হবে, এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের ফলে এবার ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা এই সংশোধনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আমলে চালু হওয়া দলীয় প্রতীকের বিধান বাতিল করা হয়েছে। তবে নির্দলীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্যে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করা আইন সংশোধনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নেরই রূপ নিচ্ছে। তার মতে, স্থানীয় সরকারে আবার দলীয় বিভাজন ফিরে এলে সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এদিকে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি ও বামপন্থি দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। জামায়াত জানিয়েছে, তারা এককভাবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে এবং সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্তরের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ। এনসিপিও নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সারাদেশে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীদের নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে সিপিবি, বাসদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মতো বাম দলগুলো কাউন্সিলর ও মেম্বার পর্যায়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে এবং কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই ভোটযাত্রা শুরু হতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের পতাকায় কালেমা: প্রোটোকল ভেঙে ফিফার সম্মান প্রদর্শন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় জামায়াত-এনসিপি, এখনো নীরব বিএনপি

আপডেট সময় : ১২:১৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন চলতি বছরের শেষ দিকে শুরু হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর মধ্যে। ইতোমধ্যে এনসিপি পাঁচটি সিটি করপোরেশন এবং শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। জামায়াতও বিভিন্ন পর্যায়ে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে বড় কোনো প্রস্তুতি বা কৌশল ঘোষণা করেনি। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যেহেতু এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, তাই প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে আগে দলে আলোচনা হবে, এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের ফলে এবার ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা এই সংশোধনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আমলে চালু হওয়া দলীয় প্রতীকের বিধান বাতিল করা হয়েছে। তবে নির্দলীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রকাশ্যে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করা আইন সংশোধনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নেরই রূপ নিচ্ছে। তার মতে, স্থানীয় সরকারে আবার দলীয় বিভাজন ফিরে এলে সংঘাত ও সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এদিকে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এবি পার্টি ও বামপন্থি দলগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। জামায়াত জানিয়েছে, তারা এককভাবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে এবং সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্তরের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ। এনসিপিও নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সারাদেশে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থীদের নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে সিপিবি, বাসদ ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মতো বাম দলগুলো কাউন্সিলর ও মেম্বার পর্যায়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে আইন ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে এবং কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই ভোটযাত্রা শুরু হতে পারে।