কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোকে আরও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে চীন এক অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারা সমুদ্রের নিচে স্থাপন করছে অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার।
চীনের সাংহাই উপকূলের কাছে লিংকাং বিশেষায়িত অঞ্চলের একটি অফশোর প্ল্যাটফর্মে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক আন্ডারওয়াটার ডেটা সেন্টারটি সম্প্রতি চালু হয়েছে। এটি সরাসরি সমুদ্রের বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। প্রায় ১৬০ কোটি ইউয়ান বিনিয়োগে নির্মিত এই প্রকল্পটি এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার প্রধান চালিকাশক্তি হবে এআই। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ মিটার গভীরে অবস্থিত এই ডেটা সেন্টারে চারটি স্তরে মোট ১৯২টি সার্ভার র্যাক রয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এর বিদ্যুৎ ব্যবহার ২.৩ মেগাওয়াট হলেও, পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এটি ২৪ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে।
স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টারগুলোর তুলনায় এর একটি বড় সুবিধা হলো শীতলীকরণ ব্যবস্থা। সাধারণ ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুতের প্রায় ৪০ শতাংশ যন্ত্রাংশ ঠান্ডা রাখতেই ব্যয় হয়। কিন্তু সমুদ্রের পানির গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ায়, সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার শীতলীকরণে বিদ্যুতের ব্যবহার অনেক কম হবে।
এই ডেটা সেন্টারটি নিকটবর্তী একটি ২০০ মেগাওয়াটের বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত, যেখানে ৫০টিরও বেশি টারবাইন রয়েছে। কেন্দ্রটির ৯৫ শতাংশেরও বেশি বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসছে। প্রকল্পটি পূর্ণমাত্রায় চালু হলে বছরে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
তবে, সমুদ্রের প্রবল ঢেউ এবং তলদেশে পলি জমার মতো প্রতিকূল পরিবেশে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে চীনা প্রকৌশলীদের নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয়েছে। পুরো প্রকল্পটি নির্মাণে ছয় মাস সময় লেগেছে।
রিপোর্টারের নাম 






















