ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে ‘জুলাই গ্রাফিতি’ মোছা নিয়ে এনসিপি-বিএনপিতে উত্তেজনা, পুলিশি হস্তক্ষেপ

চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ স্মরণে আঁকা গ্রাফিতি মোছা নিয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে।

রবিবার (১৭ মে) রাত ১১টার দিকে নগরীর টাইগারপাস এলাকার সিটি করপোরেশন অফিসের প্রবেশ মুখে সড়কের ওপর এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়কের কয়েকটি পিলারে আঁকা ‘জুলাই গ্রাফিতি’ মুছে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখা গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি ঘোষণা করে। এনসিপির কর্মীরা সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিভিন্ন গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করেন।

পরবর্তীতে, সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে যাওয়ার সড়কে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাতকে অভিযুক্ত করে ‘শাহাদাত ডাক্তার জুলাইয়ের গাদ্দার’ সহ বিভিন্ন লেখা লেখে এনসিপির নেতাকর্মীরা। এই খবর পেয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থলে এসে এর প্রতিবাদ জানান এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে তারা গ্রাফিতির ওপর লেখাগুলো মুছে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শান্ত।

এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতাদের অভিযোগ, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই দলটি গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি পালন করেছে। স্থানীয় সূত্রমতে, টাইগার পাস এলাকায় সিটি করপোরেশনের প্রবেশ ফটকের সামনে থাকা পিলারের গ্রাফিতিগুলোর ওপর সাদা ও হলুদ রং করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এনসিপি নেতারা এই দাবি করেন।

তবে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, নগরের কোথাও ‘জুলাই গ্রাফিতি’ অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং মেয়র শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের পতাকায় কালেমা: প্রোটোকল ভেঙে ফিফার সম্মান প্রদর্শন

চট্টগ্রামে ‘জুলাই গ্রাফিতি’ মোছা নিয়ে এনসিপি-বিএনপিতে উত্তেজনা, পুলিশি হস্তক্ষেপ

আপডেট সময় : ০৩:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ স্মরণে আঁকা গ্রাফিতি মোছা নিয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে।

রবিবার (১৭ মে) রাত ১১টার দিকে নগরীর টাইগারপাস এলাকার সিটি করপোরেশন অফিসের প্রবেশ মুখে সড়কের ওপর এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়কের কয়েকটি পিলারে আঁকা ‘জুলাই গ্রাফিতি’ মুছে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগর শাখা গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি ঘোষণা করে। এনসিপির কর্মীরা সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিভিন্ন গ্রাফিতি অঙ্কন শুরু করেন।

পরবর্তীতে, সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে যাওয়ার সড়কে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাতকে অভিযুক্ত করে ‘শাহাদাত ডাক্তার জুলাইয়ের গাদ্দার’ সহ বিভিন্ন লেখা লেখে এনসিপির নেতাকর্মীরা। এই খবর পেয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থলে এসে এর প্রতিবাদ জানান এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে তারা গ্রাফিতির ওপর লেখাগুলো মুছে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, পুলিশ উভয় পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শান্ত।

এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নেতাদের অভিযোগ, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতিগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই দলটি গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি পালন করেছে। স্থানীয় সূত্রমতে, টাইগার পাস এলাকায় সিটি করপোরেশনের প্রবেশ ফটকের সামনে থাকা পিলারের গ্রাফিতিগুলোর ওপর সাদা ও হলুদ রং করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর এনসিপি নেতারা এই দাবি করেন।

তবে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, নগরের কোথাও ‘জুলাই গ্রাফিতি’ অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং মেয়র শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি।