ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

২০২৬-২৭ বাজেট: করমুক্ত আয়সীমা না বাড়লেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আসছে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ রাখা এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উঠে আসা সম্ভাব্য সিদ্ধান্তগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

করমুক্ত আয়সীমা ও সাধারণ করদাতার ওপর প্রভাব উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমলেও আগামী বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ানোর আভাস পাওয়া গেছে। ফলে সাধারণ করদাতাদের জন্য বর্তমানে নির্ধারিত ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সীমাটিই বহাল থাকতে পারে। রাষ্ট্রের ওপর নাগরিকের মালিকানা বা ‘ওনারশিপ’ তৈরির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কিছু ক্ষেত্রে সামান্য কর প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক জমার ওপর আবগারি শুল্ক মওকুফের বিষয়ে সরকারপ্রধান ইতিবাচক সায় দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের জন্য ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ ও সুবিধা উপজেলা পর্যায়ের ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনতে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চালুর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা মাসে সামান্য পরিমাণ (৫০০ থেকে ১০০০ টাকা) ভ্যাট প্রদান করবেন। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে উৎসে ভ্যাট ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব এবং বিভিন্ন পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের এনবিআরের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সায় দেননি। কারণ, এতে সাধারণ গ্রাহকের ওপর বাড়তি খরচের চাপ পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর প্রস্তাবিত কর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে নতুন করে অগ্রিম আয়কর বসানোর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। তবে এনবিআরের প্রস্তাবিত উচ্চ করহার কমিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের জন্য বার্ষিক ১০০০ টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য ৩০০০ টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে ৫০০০ টাকা কর নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অটোরিকশার ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত হার আরও কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ধনীদের জন্য ‘সম্পদ কর’ ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত ধনীদের ওপর করের বোঝা কিছুটা বাড়িয়ে ‘সম্পদ কর’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে এনবিআর। ৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদের ওপর ০.৫০ শতাংশ এবং এর ওপরের ধাপে পর্যায়ক্রমে ২ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ কর আরোপ হতে পারে। এছাড়া সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেওয়া হলেও হার্টের রিং, ডায়ালাইসিসের টিউব ও ঝুট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বড় বড় বাজেটের অংকের চেয়েও মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোই হবে এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। আইএমএফ-এর শর্তের চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা বাড়ানোতেই বেশি মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: ত্রাণমন্ত্রী দুলু

২০২৬-২৭ বাজেট: করমুক্ত আয়সীমা না বাড়লেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আসছে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’

আপডেট সময় : ০২:২৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ রাখা এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে উঠে আসা সম্ভাব্য সিদ্ধান্তগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

করমুক্ত আয়সীমা ও সাধারণ করদাতার ওপর প্রভাব উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমলেও আগামী বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা না বাড়ানোর আভাস পাওয়া গেছে। ফলে সাধারণ করদাতাদের জন্য বর্তমানে নির্ধারিত ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সীমাটিই বহাল থাকতে পারে। রাষ্ট্রের ওপর নাগরিকের মালিকানা বা ‘ওনারশিপ’ তৈরির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কিছু ক্ষেত্রে সামান্য কর প্রদানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক জমার ওপর আবগারি শুল্ক মওকুফের বিষয়ে সরকারপ্রধান ইতিবাচক সায় দিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের জন্য ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ ও সুবিধা উপজেলা পর্যায়ের ছোট ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতায় আনতে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চালুর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা মাসে সামান্য পরিমাণ (৫০০ থেকে ১০০০ টাকা) ভ্যাট প্রদান করবেন। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে উৎসে ভ্যাট ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব এবং বিভিন্ন পণ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের এনবিআরের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী সায় দেননি। কারণ, এতে সাধারণ গ্রাহকের ওপর বাড়তি খরচের চাপ পড়বে বলে তিনি মনে করেন।

মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর প্রস্তাবিত কর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে নতুন করে অগ্রিম আয়কর বসানোর পরিকল্পনা করছে এনবিআর। তবে এনবিআরের প্রস্তাবিত উচ্চ করহার কমিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলের জন্য বার্ষিক ১০০০ টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য ৩০০০ টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে ৫০০০ টাকা কর নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। অটোরিকশার ক্ষেত্রেও প্রস্তাবিত হার আরও কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ধনীদের জন্য ‘সম্পদ কর’ ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত ধনীদের ওপর করের বোঝা কিছুটা বাড়িয়ে ‘সম্পদ কর’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে এনবিআর। ৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদের ওপর ০.৫০ শতাংশ এবং এর ওপরের ধাপে পর্যায়ক্রমে ২ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ কর আরোপ হতে পারে। এছাড়া সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেওয়া হলেও হার্টের রিং, ডায়ালাইসিসের টিউব ও ঝুট ব্যবসায়ীদের ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বড় বড় বাজেটের অংকের চেয়েও মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোই হবে এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। আইএমএফ-এর শর্তের চেয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা বাড়ানোতেই বেশি মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।