দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বর্তমান জাতীয় সংসদ কতটা নতুন মাইলফলক হতে পারে, তা নিয়ে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ (সিএফবি) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে গভীর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, রাজনীতিক এবং সংসদ সদস্যরা এই আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
সিএফবি চেয়ারম্যান ইমেরিটাস অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংবিধানের মিশ্র প্রয়োগ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ধ্বংসাবশেষ এবং নতুন সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে বহুমুখী বিশ্লেষণ উঠে আসে। বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশ এখনো এক ভয়াবহ স্বৈরতন্ত্রের উত্তরাধিকার বহন করছে এবং এই নতুন সংসদকে শহীদদের চিন্তা-চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান তার মূল প্রবন্ধে বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যই এবার প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হওয়ার কারণেই এমনটি ঘটেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সঠিক গ্রুমিং এবং সকলের সদিচ্ছার মাধ্যমে এই সংসদ শেষ পর্যন্ত ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নিতে পারবে।
অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ মন্তব্য করেন, “এত দ্রুত এই সংসদকে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে নতুন মাইলফলক বলা যাবে না।” তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, বাংলাদেশ আংশিকভাবে ৭২-এর সংবিধান এবং আংশিকভাবে সংবিধানবহির্ভূত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা একটি শংকর জাতীয় পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেবল সংবিধান সংশোধন করলেই গণতন্ত্র ফিরবে না, বরং ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
বক্তারা ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি এবং বিভক্তির পথ পরিহার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তারা জোর দিয়ে বলেন, সংসদ কতটা জনবান্ধব হবে তা আগামী বাজেট অধিবেশন এবং পরবর্তী সব অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বোঝা যাবে। রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হলেই এই সংসদ সত্যিকার অর্থেই গণতান্ত্রিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে তারা মনে করেন।
রিপোর্টারের নাম 
























