ঢাকা ১১:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

সক্রিয় হচ্ছে এল নিনো: এবারের বর্ষায় কম বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমের পূর্বাভাস

প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে ‘এল নিনো’। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এই প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনাটি সক্রিয় হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে এবারের বর্ষার আগমন বিলম্বিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং অসহনীয় ভ্যাপসা গরম বাড়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এল নিনো ও এর বৈশ্বিক প্রভাব

এল নিনো হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছে, মে-জুলাই মৌসুমে এল নিনো শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ৬১ শতাংশ, যা বছরের শেষভাগে ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এল নিনো সক্রিয় থাকলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে খরা ও তাপপ্রবাহ দেখা দেয়, যার বিপরীত অবস্থাকে বলা হয় ‘লা নিনা’।

বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, এল নিনো সরাসরি বাংলাদেশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করলেও দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুর ওপর এর বড় প্রভাব রয়েছে। এর ফলে:

  • বৃষ্টিপাত: বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।
  • বর্ষার আগমন: জুনের প্রথমার্ধে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে।
  • তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তি: বৃষ্টি কম হওয়ায় এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বাড়বে। বাতাসের গতি কম থাকলে ঘাম সহজে শুকাবে না, ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও মানুষের শরীরে অস্বস্তি বেশি অনুভূত হবে।

পূর্বাভাস ও সতর্কতা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মে-জুলাই মাসের তিন মাসব্যাপী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে ৩-৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে ১-২টি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার শঙ্কা আছে। এছাড়া জুন মাসে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি ও তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের আভাসও দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন আবহাওয়ার ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাই দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে কিছুটা তারতম্য হতে পারলেও এবারের বর্ষা যে তুলনামূলক শুষ্ক এবং উত্তপ্ত কাটবে, সেই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কাছে শেখ হাসিনা কি কেবল আশ্রয়প্রার্থী, নাকি কৌশলগত সম্পদ?

সক্রিয় হচ্ছে এল নিনো: এবারের বর্ষায় কম বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমের পূর্বাভাস

আপডেট সময় : ০১:৫০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠছে ‘এল নিনো’। আন্তর্জাতিক আবহাওয়া ও জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর মতে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে এই প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনাটি সক্রিয় হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে এবারের বর্ষার আগমন বিলম্বিত হওয়া, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং অসহনীয় ভ্যাপসা গরম বাড়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

এল নিনো ও এর বৈশ্বিক প্রভাব

এল নিনো হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এটি দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছে, মে-জুলাই মৌসুমে এল নিনো শুরু হওয়ার সম্ভাবনা ৬১ শতাংশ, যা বছরের শেষভাগে ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এল নিনো সক্রিয় থাকলে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে খরা ও তাপপ্রবাহ দেখা দেয়, যার বিপরীত অবস্থাকে বলা হয় ‘লা নিনা’।

বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জানান, এল নিনো সরাসরি বাংলাদেশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ না করলেও দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুর ওপর এর বড় প্রভাব রয়েছে। এর ফলে:

  • বৃষ্টিপাত: বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।
  • বর্ষার আগমন: জুনের প্রথমার্ধে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে।
  • তাপপ্রবাহ ও অস্বস্তি: বৃষ্টি কম হওয়ায় এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বাড়বে। বাতাসের গতি কম থাকলে ঘাম সহজে শুকাবে না, ফলে তাপমাত্রা খুব বেশি না হলেও মানুষের শরীরে অস্বস্তি বেশি অনুভূত হবে।

পূর্বাভাস ও সতর্কতা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মে-জুলাই মাসের তিন মাসব্যাপী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়ে বঙ্গোপসাগরে ৩-৪টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে ১-২টি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার শঙ্কা আছে। এছাড়া জুন মাসে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি ও তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের আভাসও দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুকের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন আবহাওয়ার ধরনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাই দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে কিছুটা তারতম্য হতে পারলেও এবারের বর্ষা যে তুলনামূলক শুষ্ক এবং উত্তপ্ত কাটবে, সেই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।