পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় তিন দিন ধরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ রয়েছে চার কিশোরী। গত রবিবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তারা আর ফেরেনি। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং চার পরিবারের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
ঘটনার পরদিন রবিবার রাতেই চার কিশোরীর অভিভাবকেরা বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন। নিখোঁজ কিশোরীদের মধ্যে তিনজন সপ্তম শ্রেণি এবং একজন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে তিনজন একই বিদ্যালয়ের এবং অন্যজন পাশের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ে।
নিখোঁজ এক কিশোরীর বাবা জানান, সোমবার বিকেলে একটি অচেনা নম্বর থেকে তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে কল আসে। ফোনে মেয়ে জানায় যে তারা চারজন এক ‘আন্টির’ সঙ্গে বেড়াতে গেছে। তবে কোথায় আছে, তা না জানিয়েই ফোনটি কেটে দেয়। এরপর থেকে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। অন্য তিন কিশোরীর পরিবারও একই ধরনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে কী কারণে তারা বাড়ি ছেড়েছে বা কার সঙ্গে গেছে, সে বিষয়ে কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
নিখোঁজ এক কিশোরীর স্বজন জানান, ওই কিশোরী তার বাবার কাছ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। টাকার জন্য তাদের কোনো আক্ষেপ নেই, তবে মেয়েটি কোথায় আছে বা কী অবস্থায় আছে, তা জানতে না পারায় পরিবারটি গভীর উদ্বেগে রয়েছে।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, নিখোঁজ চার শিক্ষার্থী ঘটনার দিন শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ছিল না। পরে অভিভাবকদের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হলেও তাদের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, চার কিশোরীকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























