ঢাকা ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধর্ষণ: তিন মাসে ২৪ মামলা

গত ১৫ জানুয়ারি রাতে সাভারের রেডিও কলোনি থেকে আশুলিয়ার দিকে একটি ‘সাভার পরিবহন’ বাসে এক তরুণী একা ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর বাসের চালক আলতাফ ও সহযোগী সাগর তাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। এরপর রাতভর সাভার, আশুলিয়া ও চন্দ্রা এলাকার বিভিন্ন সড়কে বাস নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। পরের দিন দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামলে হাইওয়ে পুলিশের টহল দল বাসটির কাছে গেলে ভুক্তভোগী ধর্ষণের বিষয়টি জানান। পুলিশ তাকে উদ্ধার এবং চালক ও দুই সহযোগীসহ তিন জনকে আটক করে। জব্দ করা হয় বাসটি। এই ঘটনার পর শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পুলিশের সাভার সার্কেলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সাভার ও আশুলিয়া থানায় মোট ২৪টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাভার মডেল থানায় ছয়টি এবং আশুলিয়া থানায় ১৮টি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ১১ জন, যাদের মধ্যে সাত জন গ্রেফতার হয়েছে। আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া ১৮টি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ২২ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জন রয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে ১২ জন পলাতক রয়েছে।

সম্প্রতি দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে ধর্ষণের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। গত ১৬ এপ্রিল বিকালে সাভারের একটি বাড়িতে এক কিশোরীকে (১৬) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। ভুক্তভোগীর বাবা জানান, সেদিন বিকালে তার মেয়ে বাড়ির পাশে একটি দোকানে যায় এবং ফেরার পথে শান্ত নামে এক যুবক তাকে টেনে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে শান্ত ছাড়াও ইমন নামে আরেকজনসহ মোট চার জন তাকে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। কাউকে জানালে ভিডিওটি প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর মামলা করা হয়।

এ ছাড়া, গত ১৪ মার্চ আশুলিয়ায় ধর্ষণ মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমরান ওরফে বিপি ইমরান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় আরও দুজন আসামি পলাতক রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিপি ইমরানের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল এবং তারা একসঙ্গে টিকটকের ভিডিও তৈরি করতেন। ভুক্তভোগী টিকটক করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে গত ১২ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়িতে একা পেয়ে ইমরান তাকে ধর্ষণ করে। পরে অন্য দুই আসামিকে ডেকে এনে ত…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে মিরাজকে রেখেই বাংলাদেশের অপরিবর্তিত দল ঘোষণা

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধর্ষণ: তিন মাসে ২৪ মামলা

আপডেট সময় : ১০:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

গত ১৫ জানুয়ারি রাতে সাভারের রেডিও কলোনি থেকে আশুলিয়ার দিকে একটি ‘সাভার পরিবহন’ বাসে এক তরুণী একা ওঠেন। কিছুদূর যাওয়ার পর বাসের চালক আলতাফ ও সহযোগী সাগর তাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। এরপর রাতভর সাভার, আশুলিয়া ও চন্দ্রা এলাকার বিভিন্ন সড়কে বাস নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। পরের দিন দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামলে হাইওয়ে পুলিশের টহল দল বাসটির কাছে গেলে ভুক্তভোগী ধর্ষণের বিষয়টি জানান। পুলিশ তাকে উদ্ধার এবং চালক ও দুই সহযোগীসহ তিন জনকে আটক করে। জব্দ করা হয় বাসটি। এই ঘটনার পর শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় নারীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

পুলিশের সাভার সার্কেলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে সাভার ও আশুলিয়া থানায় মোট ২৪টি ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সাভার মডেল থানায় ছয়টি এবং আশুলিয়া থানায় ১৮টি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ১১ জন, যাদের মধ্যে সাত জন গ্রেফতার হয়েছে। আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া ১৮টি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ২২ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জন রয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে ১২ জন পলাতক রয়েছে।

সম্প্রতি দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে ধর্ষণের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। গত ১৬ এপ্রিল বিকালে সাভারের একটি বাড়িতে এক কিশোরীকে (১৬) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। ভুক্তভোগীর বাবা জানান, সেদিন বিকালে তার মেয়ে বাড়ির পাশে একটি দোকানে যায় এবং ফেরার পথে শান্ত নামে এক যুবক তাকে টেনে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে শান্ত ছাড়াও ইমন নামে আরেকজনসহ মোট চার জন তাকে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। কাউকে জানালে ভিডিওটি প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর মামলা করা হয়।

এ ছাড়া, গত ১৪ মার্চ আশুলিয়ায় ধর্ষণ মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমরান ওরফে বিপি ইমরান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় আরও দুজন আসামি পলাতক রয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী জানান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিপি ইমরানের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল এবং তারা একসঙ্গে টিকটকের ভিডিও তৈরি করতেন। ভুক্তভোগী টিকটক করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে গত ১২ মার্চ দুপুরে নিজ বাড়িতে একা পেয়ে ইমরান তাকে ধর্ষণ করে। পরে অন্য দুই আসামিকে ডেকে এনে ত…