মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এই শান্তি প্রক্রিয়া এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে এবং এর টিকে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ। তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের যে জবাব পাঠানো হয়েছে, তাকে ‘নির্বোধের প্রস্তাব’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি এমন একটি প্রস্তাব যা কেউ গ্রহণ করবে না।’
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে সর্বকালের সেরা পরিকল্পনাটি রয়েছে। ইরান সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে। তাদের সামান্য যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা আমরা এক দিনেই গুঁড়িয়ে দেব।’ তিনি আবারও তার মূল অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান প্রথমে তাদের কাছে থাকা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে রাজি হলেও পরে মত পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, ‘তারা বলেছিল আমরা তা নিয়ে যেতে পারব। আমরা সে অনুযায়ী এগোচ্ছিলাম। কিন্তু তারা তাদের লিখিত প্রস্তাবে সেটি না দিয়ে মত বদলে ফেলেছে।’ ইরানি নেতাদের ‘পাগল’ হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছিল একটি ‘বিরাট কৌশলগত ভুল’। তিনি আশ্বস্ত করেন, এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের চড়ামূল্য দ্রুত কমে আসবে।
যুদ্ধবিরতিকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ থাকা অবস্থায় বর্ণনা করলেও ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধান এখনো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি সম্ভব। আমি তাদের সঙ্গে চার-পাঁচবার চুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলাম, কিন্তু তারা প্রতিবারই মত বদলে ফেলে। তারা মোটেও সম্মানজনক আচরণ করছে না।’ অন্যদিকে, ইরান ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিগুলোকে ‘অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করেছে। তবে মার্কিন প্রস্তাবের বিপরীতে নিজেদের দেওয়া জবাবকে তেহরান অত্যধিক নয় বরং বাস্তবসম্মত বলে দাবি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























