ঢাকা ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালীর সংকট পারমাণবিক হুমকির চেয়েও বিপজ্জনক: কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত কোনো আকস্মিক উত্তেজনা নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যকে সহিংসভাবে পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি পরিকল্পনারই অংশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার আল মুকাবালা অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি।

তিনি যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফলাফল হিসেবে হরমুজ প্রণালির সংকটের কথা উল্লেখ করেন। শেখ হামাদ বলেন, ইরান বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক জলপথকে নিজেদের সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে গণ্য করছে এবং এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। কাতারি এই কূটনীতিক সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ গঠনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোচ্ছেন এবং এই যুদ্ধকে তিনি প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ইসরায়েলের সীমানা বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শেখ হামাদ জানান, নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে প্রতিটি মার্কিন সরকারকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টানার চেষ্টা করেছেন নেতানিয়াহু। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিধাবোধ করলেও এবার নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে একটি ‘বিভ্রমে’ ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করিয়েছেন যে এই যুদ্ধ হবে সংক্ষিপ্ত এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানি শাসনের পতন ঘটবে, যা তিনি ভেনিজুয়েলায় মার্কিন ব্যর্থতার সঙ্গে তুলনা করেন।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মতে, এ বছরের শুরুতে ওমানের নেতৃত্বে জেনেভায় যদি আরও দুই সপ্তাহ কূটনৈতিক আলোচনা চলতো, তবে এই ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো। শেখ হামাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও ইরান তাদের জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের প্রতি জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভৌগোলিক কারণে সহাবস্থানের প্রয়োজনে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি ঐক্যবদ্ধ ও স্পষ্ট সংলাপে বসার আহ্বান জানান।

উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভেদকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করে শেখ হামাদ একটি ‘উপসাগরীয় ন্যাটো’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে মেরুদণ্ড হিসেবে রেখে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনির্দিষ্টকাল নির্ভর না করে তুরস্ক, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: মডেল পিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি

হরমুজ প্রণালীর সংকট পারমাণবিক হুমকির চেয়েও বিপজ্জনক: কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:১১:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত কোনো আকস্মিক উত্তেজনা নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যকে সহিংসভাবে পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি পরিকল্পনারই অংশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার আল মুকাবালা অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি।

তিনি যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফলাফল হিসেবে হরমুজ প্রণালির সংকটের কথা উল্লেখ করেন। শেখ হামাদ বলেন, ইরান বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক জলপথকে নিজেদের সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে গণ্য করছে এবং এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। কাতারি এই কূটনীতিক সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ গঠনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোচ্ছেন এবং এই যুদ্ধকে তিনি প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে ইসরায়েলের সীমানা বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শেখ হামাদ জানান, নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে প্রতিটি মার্কিন সরকারকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টানার চেষ্টা করেছেন নেতানিয়াহু। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিধাবোধ করলেও এবার নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে একটি ‘বিভ্রমে’ ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করিয়েছেন যে এই যুদ্ধ হবে সংক্ষিপ্ত এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানি শাসনের পতন ঘটবে, যা তিনি ভেনিজুয়েলায় মার্কিন ব্যর্থতার সঙ্গে তুলনা করেন।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মতে, এ বছরের শুরুতে ওমানের নেতৃত্বে জেনেভায় যদি আরও দুই সপ্তাহ কূটনৈতিক আলোচনা চলতো, তবে এই ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো। শেখ হামাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও ইরান তাদের জ্বালানি ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের প্রতি জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভৌগোলিক কারণে সহাবস্থানের প্রয়োজনে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি ঐক্যবদ্ধ ও স্পষ্ট সংলাপে বসার আহ্বান জানান।

উপসাগরীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিভেদকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করে শেখ হামাদ একটি ‘উপসাগরীয় ন্যাটো’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে মেরুদণ্ড হিসেবে রেখে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনির্দিষ্টকাল নির্ভর না করে তুরস্ক, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।