ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশ পালানোর সময় প্রতারক চক্রের ডিএমডি গ্রেফতার

আবাসন ব্যবসার নামে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালানোর সময় ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রবিবার (১০ মে) ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করা হয়। সিআইডি মিডিয়া বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উত্তরা পূর্ব (ডিএমপি) থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড উত্তরখানের কাছাকাছি একটি স্থানে জি+৯ তলা বিশিষ্ট চার ইউনিটের ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে অনেক গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ এর অফিসে গিয়ে শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে টাকা জমা দেন।

মামলার বাদী জানান, তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধাপে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কোম্পানির অফিসে জমা দেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এসময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ও অ্যাকাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম (জাহিদ) উপস্থিত ছিলেন। বাদীর এক বন্ধুও এই প্রকল্পে মোট ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।

অভিযুক্তরা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কোম্পানির নিজস্ব মানি রিসিট ও চেক প্রদান করলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন যে, আসামিরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া হোটেল এবং মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে আনুমানিক ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছে। গ্রাহকরা তাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে আসামিরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অফিস থেকে বের করে দেয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও, গ্রাহকরা জানতে পারেন যে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান ইস্যুতে শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে তুরস্কের সঙ্গে ভারতের নতুন অধ্যায়

১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশ পালানোর সময় প্রতারক চক্রের ডিএমডি গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:৫৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আবাসন ব্যবসার নামে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালানোর সময় ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হায়দার কবির মিথুনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রবিবার (১০ মে) ভোরে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে তাকে আটক করা হয়। সিআইডি মিডিয়া বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর উত্তরা পূর্ব (ডিএমপি) থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড উত্তরখানের কাছাকাছি একটি স্থানে জি+৯ তলা বিশিষ্ট চার ইউনিটের ভবন নির্মাণের কথা বলে ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায়। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে অনেক গ্রাহক কোম্পানির উত্তরা সেক্টর-৪ এর অফিসে গিয়ে শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে টাকা জমা দেন।

মামলার বাদী জানান, তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে ১ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধাপে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কোম্পানির অফিসে জমা দেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এসময় কোম্পানির তৎকালীন এমডি মো. শিশির আহমেদ, ডিএমডি হায়দার কবির মিথুন, ফিন্যান্স ডিরেক্টর মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার এবং আইটি ও অ্যাকাউন্টস ইনচার্জ মো. জাহাঙ্গীর আলম (জাহিদ) উপস্থিত ছিলেন। বাদীর এক বন্ধুও এই প্রকল্পে মোট ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।

অভিযুক্তরা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কোম্পানির নিজস্ব মানি রিসিট ও চেক প্রদান করলেও জমি রেজিস্ট্রি করে দেননি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা জানতে পারেন যে, আসামিরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া নেওয়া হোটেল এবং মৌজার জমির শেয়ার বিক্রির নামে আনুমানিক ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছে। গ্রাহকরা তাদের পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে আসামিরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অফিস থেকে বের করে দেয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও, গ্রাহকরা জানতে পারেন যে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. শিশির আহমেদ আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং একটি নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে।