ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

মার্কিন পোশাক বাজারে চীনকে টপকে ফের শীর্ষে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে আবারও চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। পাল্টা শুল্ক, বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রভাবে মার্কিন বাজারে চীনের পোশাক রফতানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল দপ্তরের (অটেক্সা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২০৪ কোটি ডলারের। একই সময়ে চীনের রফতানি নেমে এসেছে ১৭০ কোটি ডলারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ আবারও চীনকে ছাড়িয়ে গেল।

যদিও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বাংলাদেশের রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে, তবুও চীনের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক বেশি স্থিতিশীল রয়েছে। একই সময়ে চীনের রফতানি কমেছে প্রায় ৫৩ শতাংশ, যা তাদের জন্য এক বড় ধাক্কা।

অটেক্সার তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তৈরি পোশাক আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। পরিমাণের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক আমদানি কমেছে ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে গড় ইউনিট মূল্য সামান্য বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচন, অতিরিক্ত মজুত এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে মার্কিন বাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোশাক রফতানিকারক দেশ চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় চাপের মুখে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটির পোশাক রফতানি কমেছে ৫২ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে যেখানে চীন ৩৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছিল, এবার তা নেমে এসেছে ১৭০ কোটি ডলারে। শুধু রফতানির মূল্য নয়, পরিমাণের দিক থেকেও বড় ধস নেমেছে চীনের। দেশটির রফতানির পরিমাণ কমেছে ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা, উচ্চ শুল্কহার এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর বিকল্প সোর্সিং কৌশলের কারণে চীনের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের বাজার হিস্যা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সৌদি আরবে দারুণ ওয়েস্টার্ন ড্রেস পাওয়া যায়’: ওমরাহ সফরের কেনাকাটা নিয়ে মুখ খুললেন মারিয়া মিম

মার্কিন পোশাক বাজারে চীনকে টপকে ফের শীর্ষে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৯:০৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে আবারও চীনকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। পাল্টা শুল্ক, বাণিজ্যযুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রভাবে মার্কিন বাজারে চীনের পোশাক রফতানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশ তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল দপ্তরের (অটেক্সা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২০৪ কোটি ডলারের। একই সময়ে চীনের রফতানি নেমে এসেছে ১৭০ কোটি ডলারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ আবারও চীনকে ছাড়িয়ে গেল।

যদিও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে বাংলাদেশের রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে, তবুও চীনের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক বেশি স্থিতিশীল রয়েছে। একই সময়ে চীনের রফতানি কমেছে প্রায় ৫৩ শতাংশ, যা তাদের জন্য এক বড় ধাক্কা।

অটেক্সার তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তৈরি পোশাক আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি কমেছে ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। পরিমাণের দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক আমদানি কমেছে ১২ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধির কারণে গড় ইউনিট মূল্য সামান্য বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচন, অতিরিক্ত মজুত এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে মার্কিন বাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোশাক রফতানিকারক দেশ চীন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় চাপের মুখে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটির পোশাক রফতানি কমেছে ৫২ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে যেখানে চীন ৩৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছিল, এবার তা নেমে এসেছে ১৭০ কোটি ডলারে। শুধু রফতানির মূল্য নয়, পরিমাণের দিক থেকেও বড় ধস নেমেছে চীনের। দেশটির রফতানির পরিমাণ কমেছে ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা, উচ্চ শুল্কহার এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর বিকল্প সোর্সিং কৌশলের কারণে চীনের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের বাজার হিস্যা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।