ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি যুবক নিহত, আহত ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই যুবক, যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— ধ্বজনগর গ্রামের খেবজু মিয়ার ছেলে মোরসালিন (২২) এবং মধুপুর গ্রামের মহরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৪০)। নিহত মোরসালিন গোপীনাথপুর শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতদের পরিবার জানায়, রাতে কয়েকজন চোরকারবারি মোরসালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোরসালিন ও নবীর হোসেন নিহত হন। পরে বিএসএফ তাদের লাশ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সবুর খান জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন এবং নিহত নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। নবীর হোসেনের ছেলে তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না এবং সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে লাশ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

ধ্বজনগর গ্রামের বাসিন্দা রিপন পাঠান জানান, রাতে প্রায় ২০-২৫ জনের একটি দল কাঁটাতারের সামনে গেলে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে মোরসালিন গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়। মোরসালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল বলে তার বড় ভাই জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় ধ্বজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত দিয়ে ভারতের প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। চোরাচালানের মালামাল নিয়ে আসার সময় ভারতের ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এ সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে বিএসএফ দুই রাউন্ড ছররা গুলি করলে বাংলাদেশি চোরাকারবারি মোরসালিন (২২) ও নবীর হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তারা মারা যান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮ মাস পর জানা গেল, ইসরায়েলের কারাগারে আটক গাজার যুবক: পরিবার পেল নতুন আশা

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি যুবক নিহত, আহত ২

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই যুবক, যাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— ধ্বজনগর গ্রামের খেবজু মিয়ার ছেলে মোরসালিন (২২) এবং মধুপুর গ্রামের মহরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৪০)। নিহত মোরসালিন গোপীনাথপুর শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। আহত দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতদের পরিবার জানায়, রাতে কয়েকজন চোরকারবারি মোরসালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় গেলে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই মোরসালিন ও নবীর হোসেন নিহত হন। পরে বিএসএফ তাদের লাশ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সবুর খান জানান, সীমান্তে গুলিতে দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন এবং নিহত নবীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। নবীর হোসেনের ছেলে তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যা থেকেই বাড়িতে ছিলেন না এবং সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফ গুলি করে লাশ নিয়ে যায়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

ধ্বজনগর গ্রামের বাসিন্দা রিপন পাঠান জানান, রাতে প্রায় ২০-২৫ জনের একটি দল কাঁটাতারের সামনে গেলে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে মোরসালিন গুলিবিদ্ধ হন এবং বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যায়। মোরসালিন এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল বলে তার বড় ভাই জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় ধ্বজনগর-পাথারিয়াদ্বার সীমান্ত দিয়ে ভারতের প্রায় ২০০ গজ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। চোরাচালানের মালামাল নিয়ে আসার সময় ভারতের ৪৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়। এ সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে বিএসএফ দুই রাউন্ড ছররা গুলি করলে বাংলাদেশি চোরাকারবারি মোরসালিন (২২) ও নবীর হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তারা মারা যান।