ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

আমিরাতের ওপেক ত্যাগের ঘোষণা: বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন সংকটে সৌদি আরব

সংযুক্ত আরব আমিরাতের হঠাৎ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ‘ওপেক’ ত্যাগের ঘোষণায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এর ফলে সংস্থাটির প্রধান নেতৃত্বদানকারী দেশ সৌদি আরব বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ আমিরাতের এই সিদ্ধান্তে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবের একক আধিপত্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরেই তাদের উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল। আবুধাবির অভিযোগ, তাদের উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী তেলের বাজারজাতকরণের ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এই অসন্তোষ থেকেই শেষ পর্যন্ত জোট ত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এর ফলে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী যুবরাজ আব্দুল আজিজ বিন সালমানের জন্য তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ওপেকের ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ‘ওপেক প্লাস’ জোট গঠনের পর থেকে আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নিজেদের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছিল। এখন আমিরাত স্বাধীনভাবে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করলে ওপেক প্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেবে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তেলের উৎপাদন নিয়ে বড় দেশগুলোর মধ্যে মতভেদের কারণে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সৌদি আরব বা আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন: ধাপে ধাপে বাড়বে বেতন

আমিরাতের ওপেক ত্যাগের ঘোষণা: বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন সংকটে সৌদি আরব

আপডেট সময় : ১০:০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের হঠাৎ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ‘ওপেক’ ত্যাগের ঘোষণায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এর ফলে সংস্থাটির প্রধান নেতৃত্বদানকারী দেশ সৌদি আরব বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ আমিরাতের এই সিদ্ধান্তে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবের একক আধিপত্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরেই তাদের উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল। আবুধাবির অভিযোগ, তাদের উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী তেলের বাজারজাতকরণের ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এই অসন্তোষ থেকেই শেষ পর্যন্ত জোট ত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এর ফলে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী যুবরাজ আব্দুল আজিজ বিন সালমানের জন্য তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ওপেকের ভেতরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ‘ওপেক প্লাস’ জোট গঠনের পর থেকে আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো নিজেদের গুরুত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছিল। এখন আমিরাত স্বাধীনভাবে তেল উৎপাদন ও রপ্তানি শুরু করলে ওপেক প্লাসের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেবে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তেলের উৎপাদন নিয়ে বড় দেশগুলোর মধ্যে মতভেদের কারণে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সৌদি আরব বা আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।