ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

মার্কিন চাপে খামেনির জানাজা বয়কট করল ১৩ দেশ: নেপথ্যে ওয়াশিংটনের ‘সর্বাত্মক অভিযান’

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া থেকে অন্তত ১৩টি দেশ বিরত ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল কূটনৈতিক চাপের মুখে এই দেশগুলো তেহরানের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ এই জানাজায় অংশ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে এসব দেশের কয়েকটি কূটনৈতিক মাধ্যমে অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে চাইলেও ইরান তা গ্রহণ করেনি। একটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিদেশি প্রতিনিধিরা যেন তেহরানে না যান, সেজন্য গত পাঁচ দিন ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ তৎপরতা চালিয়েছেন।

তথ্যমতে, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি গোপন নির্দেশনা জারি করেছিলেন। সেখানে সব মার্কিন দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়াকে ওয়াশিংটন ‘অবন্ধুসুলভ আচরণ’ হিসেবে গণ্য করবে। এমনকি এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরব কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, মার্কো রুবিও নিজে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এছাড়া আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সেখানকার সরকারগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, জানাজায় যোগ দিলে দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া উন্নয়ন সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইরানজুড়ে যখন কোটি কোটি মানুষ তাদের নেতাকে শেষ বিদায় জানাচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের এমন কঠোর অবস্থানের খবরটি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

মার্কিন চাপে খামেনির জানাজা বয়কট করল ১৩ দেশ: নেপথ্যে ওয়াশিংটনের ‘সর্বাত্মক অভিযান’

আপডেট সময় : ০২:১২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া থেকে অন্তত ১৩টি দেশ বিরত ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল কূটনৈতিক চাপের মুখে এই দেশগুলো তেহরানের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এবং পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ এই জানাজায় অংশ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে এসব দেশের কয়েকটি কূটনৈতিক মাধ্যমে অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে চাইলেও ইরান তা গ্রহণ করেনি। একটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিদেশি প্রতিনিধিরা যেন তেহরানে না যান, সেজন্য গত পাঁচ দিন ধরে মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ তৎপরতা চালিয়েছেন।

তথ্যমতে, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি গোপন নির্দেশনা জারি করেছিলেন। সেখানে সব মার্কিন দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে তারা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়াকে ওয়াশিংটন ‘অবন্ধুসুলভ আচরণ’ হিসেবে গণ্য করবে। এমনকি এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরব কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, মার্কো রুবিও নিজে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি এ বিষয়ে কথা বলেছেন। এছাড়া আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা সেখানকার সরকারগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, জানাজায় যোগ দিলে দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া উন্নয়ন সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইরানজুড়ে যখন কোটি কোটি মানুষ তাদের নেতাকে শেষ বিদায় জানাচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটনের এমন কঠোর অবস্থানের খবরটি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।