বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, জুলাই মাস কেবল একটি মাস নয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই মাসেই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা সাহাবুদ্দিন চপ্পুর পতন ঘটেছে, যা তিনি ‘ফ্যাসিবাদের আরেক দোসরের পতন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ২৪ জুলাই বঙ্গভবন খালি হয়েছে এবং এই ‘জুলাই বিপ্লব’ এখনও চলমান।
মাহমুদুর রহমান আরও জানান যে, এই মাসেই ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও আন্দোলন চলছে, যা জুলাই মাসকে এক গৌরবময় মাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি এই মাসকে স্মরণীয় করে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি স্বীকার করেন যে, প্রবীণ ও তরুণ উভয়েরই কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে, তবে সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ এখনও ফুরিয়ে যায়নি। তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি যদিও দুই বছর পূর্ণ হয়নি, তবে আগামী ৫ আগস্ট সেই দুই বছর পূর্ণ হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জুলাই বিপ্লব নিয়ে নিয়মিত চর্চা করলে দেশের স্বাধীনতা ও বিপ্লব আরও শক্তিশালী হবে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে মুফাচ্ছির আহমদ ফয়েজীর একক ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি নিজেকে এই আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে অনুপযুক্ত মনে করেন, কারণ তিনি চিত্রকলার বোদ্ধা নন এবং তার সাহিত্যচর্চাও দুর্বল। তবে ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল, যা তার মা বাংলা সাহিত্যের শিক্ষিকা হওয়ায় তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, ছবি তিনি অত্যন্ত পছন্দ করেন এবং বিভিন্ন ইসলামিক দেশে ক্যালিগ্রাফি দেখার সুযোগ হয়েছে তার। বিশেষ করে পবিত্র কুরআনের আয়াতভিত্তিক ক্যালিগ্রাফি তাকে মুগ্ধ করেছে। তবে বাংলাদেশের তুলনায় ইসলামি বিশ্বে ক্যালিগ্রাফির চর্চা অনেক বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, মুফাচ্ছির আহমদ ফয়েজীর এই প্রদর্শনীর একটি বিশেষ দিক হলো, তিনি তার শিল্পকর্মের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে ১৭৫৭ সালে স্বাধীনতা হারানোর পর থেকে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসকে তুলে ধরেছেন। তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তরুণদের ফ্যাসিবাদের অস্ত্রের বিরুদ্ধে কালি-কলম দিয়ে লড়াই করা, যেখানে জুলাইয়ের গ্রাফিতি ও স্লোগানগুলো আন্দোলনে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল।
রিপোর্টারের নাম 





















