ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিনের জন্য নির্ধারিত আজীবন সুযোগ-সুবিধা

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পরও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তিনি আজীবন অবসরভাতাসহ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

শুক্রবার বিকেলে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে অপারগতার কথা উল্লেখ করেছেন।

‘দি প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫’ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ছয় মাসের বেশি দায়িত্ব পালন করলে অথবা পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করলে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাবেন।

এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্টের সেবা পাবেন। দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতাও তার জন্য প্রযোজ্য থাকবে। সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তার বাসভবনে একটি সরকারি টেলিফোন সংযোগ এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে এর বিল সরকার বহন করবে।

এ ছাড়া একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসাসুবিধা, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সফরের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগও তার জন্য বহাল থাকবে। উল্লেখ্য, কোনো রাষ্ট্রপতি যদি আগে সরকারের অন্য কোনো পদে থেকে অবসর গ্রহণ করে থাকেন, তবে তার অভিপ্রায় অনুযায়ী যেকোনো একটির অবসর সুবিধা নিতে পারবেন – তিনি চাইলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অবসর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন অথবা আগের চাকুরিজীবী হিসেবে এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

১৯৭৫ সালের প্রণীত রাষ্ট্রপতি অবসর সুবিধা আইনটি ২০১৬ সালের সংশোধনীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। এই সংশোধনীতে একটি বিধান যুক্ত করা হয় যে, যদি কোনো রাষ্ট্রপতি অসাংবিধানিক পন্থায় বা অবৈধ উপায়ে পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি আদালত কর্তৃক ঘোষিত হয়, তবে তিনি অবসর সুবিধা পাবেন না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ মাদক কারবারি থানার ভেতরেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন: চাঞ্চল্য রাজশাহীতে

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর মো. সাহাবুদ্দিনের জন্য নির্ধারিত আজীবন সুযোগ-সুবিধা

আপডেট সময় : ১০:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পরও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তিনি আজীবন অবসরভাতাসহ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

শুক্রবার বিকেলে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে অপারগতার কথা উল্লেখ করেছেন।

‘দি প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫’ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ছয় মাসের বেশি দায়িত্ব পালন করলে অথবা পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করলে তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাবেন।

এ ছাড়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেনডেন্টের সেবা পাবেন। দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য সরকার নির্ধারিত বার্ষিক ভাতাও তার জন্য প্রযোজ্য থাকবে। সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তার বাসভবনে একটি সরকারি টেলিফোন সংযোগ এবং নির্ধারিত সীমার মধ্যে এর বিল সরকার বহন করবে।

এ ছাড়া একজন মন্ত্রীর সমমানের চিকিৎসাসুবিধা, একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের অভ্যন্তরে সফরের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুযোগও তার জন্য বহাল থাকবে। উল্লেখ্য, কোনো রাষ্ট্রপতি যদি আগে সরকারের অন্য কোনো পদে থেকে অবসর গ্রহণ করে থাকেন, তবে তার অভিপ্রায় অনুযায়ী যেকোনো একটির অবসর সুবিধা নিতে পারবেন – তিনি চাইলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে অবসর সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন অথবা আগের চাকুরিজীবী হিসেবে এ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

১৯৭৫ সালের প্রণীত রাষ্ট্রপতি অবসর সুবিধা আইনটি ২০১৬ সালের সংশোধনীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। এই সংশোধনীতে একটি বিধান যুক্ত করা হয় যে, যদি কোনো রাষ্ট্রপতি অসাংবিধানিক পন্থায় বা অবৈধ উপায়ে পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি আদালত কর্তৃক ঘোষিত হয়, তবে তিনি অবসর সুবিধা পাবেন না।