রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীনের পদত্যাগকে দেরিতে হলেও জাতির ওপর থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে যাওয়া হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার বা বিচার দাবির বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তবে সম্ভবত সম্প্রতি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় অভিনন্দন জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং যতদিন তিনি এভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন জামায়াতে ইসলামী তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
ডা. শফিকুর রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বলেন, ২০২৩ সালের এপ্রিলে তৎকালীন সরকার তাকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দিয়েছিল। ২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে যে পরিবর্তন এসেছিল, তার একটি প্রধান দাবি ছিল এই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ। কারণ, তার দায়িত্বে থাকাকালীন অনেকগুলো অগঠনমূলক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এতগুলো মানুষের জীবন গেলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে তিনি কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। জনগণ মনে করে, তিনি এই অপকর্মের মদদদাতাও ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে আলাপ-আলোচনার পরামর্শের আলোকেই মধ্যরাতে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন, যেখানে স্পষ্টতই বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ ও মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের প্রথম ভাগে একটি জাতীয় দৈনিকের সাক্ষাৎকারে তিনি পুরো বিষয়টাকে অস্বীকার করে সম্পূর্ণ উল্টো বক্তব্য দেন। তিনি বলেছিলেন যে, তিনি কোনো পদত্যাগপত্র দেখেনই দেখেননি, যার অর্থ হলো তিনি ১২ কোটি মানুষের সামনে মিথ্যাচার করেছেন অথবা সাক্ষাৎকারে মিথ্যা বলেছেন। পরস্পরবিরোধী দুটি বক্তব্য একসঙ্গে সঠিক হতে পারে না।
রিপোর্টারের নাম 



















