একটি সমাজ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে যোগ্য নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই, আর এই যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হয় জনগণের সচেতনতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে। যোগ্য নেতা বাছাই করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, ভোট দেওয়া মানেই হলো প্রার্থীর যোগ্যতা ও সততার সাক্ষ্য দেওয়া।
ইসলামে যোগ্য জনপ্রতিনিধির আবশ্যিক গুণাবলি
হাদিস ও কোরআনের আলোকে একজন নেতার মধ্যে যেসব গুণ থাকা আবশ্যক:
১. সচ্চরিত্রবান ও সত্যবাদী: নেতা হবেন নৈতিকতায় সর্বোত্তম (বুখারি: ৩৫৫৯) এবং মুত্তাকি ও সত্যবাদী। মিথ্যাবাদী শাসকের প্রতি আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকাবেন না বলে সতর্ক করা হয়েছে (মুসলিম: ১৯৬)।
২. জনদরদি: নেতা জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবেন, তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবেন এবং তাদের কল্যাণ সাধনে চেষ্টা করবেন। যে শাসক জনগণের মঙ্গল কামনা করে না, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না (মুসলিম: ৪৬২৫)।
৩. ন্যায়পরায়ণ ও সুবিচারক: ন্যায়পরায়ণ শাসক কিয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়ায় আশ্রয় পাবেন (বুখারি: ৬৮০৬)। বিচারকদের মধ্যে যারা জেনেশুনে অন্যায় রায় দেন বা সত্যকে উপলব্ধি না করে অন্যের অধিকার নস্যাৎ করেন, তারা জাহান্নামি (তিরমিজি: ১৩২২)।
৪. জ্ঞানী ও শিক্ষিত: জ্ঞান ও শিক্ষা ছাড়া জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব নয়, কারণ জ্ঞান না থাকলে জনগণের অধিকার অনুধাবন করা ও যৌক্তিকভাবে তা আদায় করা যায় না।
৫. স্নেহশীল ও পরামর্শদাতা: নেতার হৃদয় হবে আল্লাহভীরু। তিনি কঠিন হবেন না, বরং স্নেহশীল, ধৈর্যশীল ও হিতাকাঙ্ক্ষী হবেন এবং পরামর্শ করে চলবেন। তিনি নিজের মতামত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না।
৬. আকাঙ্ক্ষা বর্জন ও স্বেচ্ছাচারিতা পরিহার: নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা না থাকা নেতার সবচেয়ে বড় গুণ। এছাড়া, তিনি নিজের ইচ্ছামতো কিছু দেবেন বা বঞ্চিত করবেন না, বরং কোষাধ্যক্ষ বা বণ্টনকারীর মতো কাজ করবেন।
৭. প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া: ব্যক্তিগত কোনো কারণে প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান গুণ। রাসুল (সা.) ব্যক্তিগত ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করতেন না (বুখারি: ৬১২৬)।
রিপোর্টারের নাম 

























