চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে মগধরা ইউনিয়নের একটি বাজারে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।
আহত ব্যক্তির নাম সজীব আহমেদ। তিনি মগধরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে সজীব আহমেদ পেলিশ্যার বাজার থেকে কাজ শেষে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। বাজারের পূর্ব দিকে পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়।
পরে স্থানীয়রা সজীব আহমেদকে উদ্ধার করে দ্রুত সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, সজীবের মাথায় একাধিক গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সজীব আহমেদ দাবি করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কার্যক্রম ও প্রচার-প্রচারণা চালানোর কারণে তাকে বেশ কিছুদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। হামলার সময় তিনি আকবর ও আলভি নামে দুজনকে চিনতে পেরেছেন বলেও জানান। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকবর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে এবং আলভি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তবে অভিযুক্ত আলভি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি আহত সজীবের ছোট ভাই আদরের সঙ্গে অন্য স্থানে ছিলেন এবং খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মগধরা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম এই হামলার দায় দলীয়ভাবে অস্বীকার করে সন্দ্বীপে শান্তির রাজনীতি বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি হামলায় জড়িত যেই হোক না কেন, সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলাউদ্দীন সিকদার এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে আদর্শিক রাজনীতি করার কারণে একজন নিরীহ কর্মীকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তিনি দ্রুত এই ঘটনার বিচার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এদিকে, সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান, পেলিশ্যার বাজারে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
রিপোর্টারের নাম 





















