প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া সরকার টেলিকম সেক্টরে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ডিজিটাল আইডি ও ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা প্রণয়ন এবং এই খাতে সুষ্ঠু রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
শনিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে ‘নতুন টেলিকম পলিসি এবং উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, টেলিকম খাতকে দেশের ভবিষ্যৎ শিল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের ৯০ শতাংশ নাগরিককে ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি এবং ৫জি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা।
ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়িত হলে নাগরিকদের পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেন একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আসবে, যা সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করবে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
রেহান আসিফ আসাদ আরও বলেন, ১০০ টাকার সেবা কিনে ৩৮ টাকা কর নেওয়া যৌক্তিক নয়। ইন্টারকানেক্টেড ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং আইএসপিগুলোকে একসঙ্গে ইন্টারকানেক্টিভিটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার বর্তমান চিত্র একটি সমষ্টিগত ব্যর্থতা, তবে এটি একটি বড় সুযোগও তৈরি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড সেবায় পিছিয়ে আছে, যা স্বীকার করে সামনে এগোতে হবে।
সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশের মানুষ বা ভোক্তা, দ্বিতীয়ত ব্যবসা ও অর্থনীতির বিকাশ এবং তৃতীয়ত বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো। আগামীতে জিডিপির ২.৫ শতাংশে এফডিআই উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে, যা প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। বৈঠকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ করে বলেন, পুরোনোকে আঁকড়ে না রেখে ভয়েস থেকে ডেটায় গুরুত্ব দিতে হবে এবং কোয়ান্টাম লিপের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























