ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হলো রাজিব আহাসেনের একক শিল্প প্রদর্শনী ‘এমব্রেস অফ দ্যা আর্থ’

ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হয়েছে বাংলাদেশি শিল্পী রাজিব আহাসেনের প্রথম একক শিল্প প্রদর্শনী ‘এমব্রেস অফ দ্যা আর্থ’। গতকাল, শুক্রবার, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, শিল্পানুরাগী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মফিদুল হক— ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং নির্বাহী সদস্য, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা; শিল্পসমালোচক মইনুদ্দিন খালেদ; প্রখ্যাত শিল্পী প্রফেসর জামাল আহমেদ; এবং কামাল উদ্দিন— সহযোগী অধ্যাপক, অঙ্কন ও চিত্রাঙ্কন বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

‘এমব্রেস অফ দ্যা আর্থ’ একটি গভীর ব্যক্তিগত ও আবেগঘন শিল্প-উপস্থাপনা, যা স্মৃতি, স্থান এবং রূপান্তরের অভিজ্ঞতার ভেতর থেকে নির্মিত। জলরং ও অ্যাক্রিলিকে আঁকা প্রায় ছত্রিশটি চিত্রকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনীটি গ্রামীণ জীবনের অন্তরঙ্গতা এবং নগর জীবনের পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যে একটি দৃশ্যমান সেতুবন্ধন তৈরি করে।

শৈশব ও কৈশোরে গ্রামের মাটির পথের ধুলা, শান্ত খাল-বিল, বিস্তীর্ণ নদীর পাড় এবং কৃষিনির্ভর জীবনের ছন্দের ভেতর বেড়ে ওঠা রাজিব আহাসেন তাঁর শিল্পচর্চায় কৃত্রিম বয়ানের পরিবর্তে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সাধারণ মানুষের জীবন ও তাদের সরল সৌন্দর্য তাঁর শিল্পভাষাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্মাণ করেছে।

এই প্রদর্শনীতে শিল্পী গ্রামীণ জীবনের উন্মুক্ততা ও প্রাণশক্তি থেকে নগর জীবনের কাঠামোবদ্ধ ও কখনও কখনও বেসুরো গতিতে তাঁর ধীরে ধীরে অগ্রযাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর চিত্রকর্মে সংবেদনশীলভাবে ধরা পড়ে এই পরিবর্তন, যেখানে নস্টালজিয়া, অভিযোজন এবং পরিচয়ের বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। প্রাণবন্ত তুলির আঁচড়, স্তরবিন্যাসপূর্ণ টেক্সচার এবং আলো-রঙের সূক্ষ্ম ব্যবহারে প্রতিটি কাজ স্মৃতি ও বর্তমানের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করে।

‘এমব্রেস অফ দ্যা আর্থ’ কেবল শিল্পীর শৈশবের মানুষ ও ভূদৃশ্যের প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়, বরং এটি আত্মপরিচয়, সংযোগ এবং পরিবর্তনের এক অনুসন্ধান। প্রদর্শনীটি দর্শকদের থামতে, ভাবতে এবং মাটি, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের মৌলিক সম্পর্কের সঙ্গে নতুন করে সংযুক্ত হতে আহ্বান জানায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইল ইস্যুতে লেবাননে গভীর বিভেদ: মুখোমুখি সরকার ও হিজবুল্লাহ

অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হলো রাজিব আহাসেনের একক শিল্প প্রদর্শনী ‘এমব্রেস অফ দ্যা আর্থ’

আপডেট সময় : ০৮:০১:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হয়েছে বাংলাদেশি শিল্পী রাজিব আহাসেনের প্রথম একক শিল্প প্রদর্শনী ‘এমব্রেস অফ দ্যা আর্থ’। গতকাল, শুক্রবার, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, শিল্পানুরাগী এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মফিদুল হক— ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং নির্বাহী সদস্য, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা; শিল্পসমালোচক মইনুদ্দিন খালেদ; প্রখ্যাত শিল্পী প্রফেসর জামাল আহমেদ; এবং কামাল উদ্দিন— সহযোগী অধ্যাপক, অঙ্কন ও চিত্রাঙ্কন বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

‘এমব্রেস অফ দ্যা আর্থ’ একটি গভীর ব্যক্তিগত ও আবেগঘন শিল্প-উপস্থাপনা, যা স্মৃতি, স্থান এবং রূপান্তরের অভিজ্ঞতার ভেতর থেকে নির্মিত। জলরং ও অ্যাক্রিলিকে আঁকা প্রায় ছত্রিশটি চিত্রকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনীটি গ্রামীণ জীবনের অন্তরঙ্গতা এবং নগর জীবনের পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যে একটি দৃশ্যমান সেতুবন্ধন তৈরি করে।

শৈশব ও কৈশোরে গ্রামের মাটির পথের ধুলা, শান্ত খাল-বিল, বিস্তীর্ণ নদীর পাড় এবং কৃষিনির্ভর জীবনের ছন্দের ভেতর বেড়ে ওঠা রাজিব আহাসেন তাঁর শিল্পচর্চায় কৃত্রিম বয়ানের পরিবর্তে জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেই প্রধান উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সাধারণ মানুষের জীবন ও তাদের সরল সৌন্দর্য তাঁর শিল্পভাষাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্মাণ করেছে।

এই প্রদর্শনীতে শিল্পী গ্রামীণ জীবনের উন্মুক্ততা ও প্রাণশক্তি থেকে নগর জীবনের কাঠামোবদ্ধ ও কখনও কখনও বেসুরো গতিতে তাঁর ধীরে ধীরে অগ্রযাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর চিত্রকর্মে সংবেদনশীলভাবে ধরা পড়ে এই পরিবর্তন, যেখানে নস্টালজিয়া, অভিযোজন এবং পরিচয়ের বিষয়গুলো একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। প্রাণবন্ত তুলির আঁচড়, স্তরবিন্যাসপূর্ণ টেক্সচার এবং আলো-রঙের সূক্ষ্ম ব্যবহারে প্রতিটি কাজ স্মৃতি ও বর্তমানের এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করে।

‘এমব্রেস অফ দ্যা আর্থ’ কেবল শিল্পীর শৈশবের মানুষ ও ভূদৃশ্যের প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়, বরং এটি আত্মপরিচয়, সংযোগ এবং পরিবর্তনের এক অনুসন্ধান। প্রদর্শনীটি দর্শকদের থামতে, ভাবতে এবং মাটি, স্মৃতি ও আত্মপরিচয়ের মৌলিক সম্পর্কের সঙ্গে নতুন করে সংযুক্ত হতে আহ্বান জানায়।