চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন ল্যাব থেকে মেধা সম্পদ ও তথ্য চুরির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাপী বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ডিপসিকসহ মুনশট ও মিনিম্যাক্সের মতো চীনা স্টার্টআপগুলো মার্কিন মালিকানাধীন বড় এআই মডেল থেকে ‘ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্য চুরি করে নিজস্ব মডেল তৈরি করছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মতে, এভাবে তৈরি করা চীনা এআই মডেলগুলো ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে; কারণ এগুলোতে মূল মডেলের মতো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এবং এগুলো বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য দিতে পারে। মূলত কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা শক্তিশালী এআই-এর তথ্য ব্যবহার করে চীন অত্যন্ত কম খরচে ও কম সময়ে নিজেদের স্বনির্ভর এআই প্রযুক্তি গড়ে তুলছে বলে ওয়াশিংটন মনে করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা বিদেশি প্রতিপক্ষদের এ বিষয়ে সচেতন করেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওপেনএআই-ও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করেছিল যে, চ্যাটজিপিটির মডেল নকল করার জন্য ডিপসিক তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এদিকে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগকে ‘ভিত্তহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে যে বেইজিং মেধা সম্পদ রক্ষার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে প্রকাশিত এই কূটনৈতিক বার্তা দুই পরাশক্তির মধ্যকার চলমান প্রযুক্তি যুদ্ধকে আরও উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে হুয়াওয়ে চিপ প্রযুক্তির উপযোগী করে ডিপসিকের নতুন মডেল উন্মোচন চীনের ক্রমবর্ধমান স্বনির্ভরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ।
রিপোর্টারের নাম 
























